খুদে প্রতিভা

অতিথির অভিনয় জীবন

শুরুটা ভিম বাংলাদেশের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এরপর বিভিন্ন নাটকেও বেশ সুনাম নিয়ে খুদে অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করেছে সে। কচি-কাঁচার আসরের এবারের আয়োজনে খুদে তারকা ইসরাত জাহান অতিথির সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন— জুনায়েদ হাবীব
অতিথির অভিনয় জীবন
ইসরাত জাহান অতিথি

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ইসরাত জাহান অতিথি পরিবারের ছোট মেয়ে। তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তার প্রতি আদরের কমতি ছিল না। একদিন অতিথির বড়ো বোন সাফিলা আফরিন আবৃত্তি অতিথির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। সে ছবিটি পোস্ট করার ঘণ্টাখানেক পর বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে কমর্রত এক ব্যক্তির নজরে আসে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাফিলা আফরিন আবৃত্তিকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে অতিথিকে অভিনয়জগতে আনার ব্যাপারে বলেন। ছোটবোন শিশুশিল্পী হতে পারবে—ব্যাপরাটা জেনে অনেকটা উচ্ছ্বসিত হন আবৃত্তি। সেদিন আবৃত্তি তার মা মেহেরুন্নেসা মনিকে জানালে অনেকটা বিস্ময় প্রকাশ করেন এই ভেবে, এত ছোট মেয়ের দ্বারা কি আদৌ অভিনয় করা সম্ভব!

তবু মিডিয়া সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি যেহেতু বলেছেন তাই পরে তারাও ব্যাপারাটিকে গুরুত্ব দেন। হঠাৎ একদিন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা পরিচালিত ভিম বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে অভিনয় করার ডাক আসে। সেদিনই ইসরাত জাহান অতিথি অভিনয়জগতে অতিথি হিসেবে পা রাখে। ভিম বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিথি খুদে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে সর্বমহলে। এরপর একের পর এক বিজ্ঞাপন ও নাটকে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়। শুটিং সেটে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার অনুভূতি জানতে চাইলে অতিথি মৃদু হেসে বলল, ‘ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করাটা যেমন আনন্দের ঠিক তেমনি কঠিনও ছিল। কারণ এত বড়ো বড়ো স্টারদের সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করা প্রথমবার, তাই অনেকটা ভয় পেয়েছিলাম। তবুও শুরু থেকে আম্মু আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকায় এখন ধীরে ধীরে অভিনয়ে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।’ অতিথির মা মেহেরুন্নেসা মনি জানান, ‘ছোটবেলা থেকেই তার এসবের প্রতি কিছুটা ঝোঁক ছিল। যে কারণে সে নিজে থেকেই আগ্রহ দেখাত। তবে অতিথি সমানতালে পড়াশোনায়ও মেধাতালিকায় রয়েছে।’ টিভির পর্দার কোন তারকাকে বেশি পছন্দ করো—এমন প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, পূজা চেরিকে তার সবচেয়ে বেশি পছন্দ। ইসরাত জাহান অতিথি এ পর্যন্ত ১৪টির মতো বিজ্ঞাপনে এবং ৬টি নাটকে অভিনয় করেছে।

এর মধ্যে তার কাজ করা দেশের জনপ্রিয় ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান ম্যাগি নুডলসের বিজ্ঞাপন ও প্রবীণদের গুরুত্ব নিয়ে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রির বিজ্ঞাপন বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। কাজদুটোর অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে অতিথি বলে, ‘অলিম্পিকের টিভিসিতে আমাকে নিয়ে একটি চিত্রধারণ করতে গিয়ে সবারই অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। সেখানে আমাকে দেখা যায় খাবার খেতে। তবে সেটা ঠিকমতো হয়নি বলে কয়েকবার আমাকে খাবার খেতে হয়েছিল। এত খাবার খেয়েছিলাম সেটা কখনো ভোলার নয়। সত্যিই মুহূর্তটা খুব কষ্টের ছিল। তবুও সেদিনের কথা মনে এলে আমার খুব হাসি পায়’। সে জানায়, যখন তার অভিনীত কাজগুলো দেখে পরিবার কিংবা স্কুলের সবাই প্রশংসা করে সেটাই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। তবুও ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত