বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

করোনাকালের দিনপঞ্জি-৭

আমরা সচেতন থাকলেই সবকিছু ঠিক থাকবে : রাইসুল ইসলাম মেহেদী

আমরা সচেতন থাকলেই সবকিছু ঠিক থাকবে : রাইসুল ইসলাম মেহেদী
রাইসুল ইসলাম মেহেদী, শিশুশিল্পী

চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত রয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সেইসঙ্গে সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছোটরাও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানাচ্ছে কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঘরে থাকার এই সময়ে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। পর্বে দিনযাপনের কথা লিখে পাঠিয়েছে আমাদের ছোট্ট বন্ধু রাইসুল ইসলাম মেহেদী। চলো শুনে নিই তার করোনার দিনগুলির গল্প-

বন্ধুরা, আজ আমি তোমাদের বলব আমার হোম কোয়ারান্টাইনের দিনযাপন আর কীভাবে সচেতন ও সুরক্ষিত থাকছি সেই গল্প।

আমার নাম রাইসুল ইসলাম মেহেদী। আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। আমার অভিনয় করতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু নোভেল করোনার কারণে স্কুলে যেতে পারছি না, যেতে পারছি না সুটিংয়েও। ঘরেই সময় কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু ঘরে থেকে অনলাইনে ক্লাস করছি, সবার সাথে অনলাইনে কথা বলতে পারছি প্রাণ খুলে। ক্যারাম আর লুডু খেলছি পরিবারের মানুষদের সাথে। নিয়মিত পড়ালেখাও করছি।

যদিও একটু বিরক্ত লাগছে, এত লম্বা সময় এভাবে কেটে যাচ্ছে। কিন্তু সময়গুলো অযথা নষ্ট না করে বিভিন্ন কাজে লাগাচ্ছি। আমার আম্মুর কাজে সাহায্য করছি। পরিবারের সবার সাথে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে আলোচনা করছি। সুস্থ থাকার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করছি। বেশির ভাগ সময় গরম পানি দিয়ে গার্গল করছি আর গরম পানি পান করছি, সাবান পানি দিয়ে নিয়মমতো হাত ধুচ্ছি।

আমরা চাইলে সহজেই নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি। এজন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে– ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যতটা সম্ভব গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে, প্রচুর ফলের রস আর পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে ভালো করে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। পরিধানকৃত ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ সময়ে ঘরে থাকাই সুরক্ষিত থাকার প্রধান উপায়।

আমরা এসব করার পাশাপাশি প্রার্থনা করব যেন মহান আল্লাহ তা'য়ালা সব দুর্যোগ থেকে আমাদের মুক্তি দেন। আমি জানি, আবার আগের মতো ঘুরতে যেতে পারব, আবার সুটিং করতে পারব, স্কুলে যেতে পারব। সব আবার আগের মতো সুন্দর হয়ে যাবে। কিন্তু আগের মতো হওয়ার জন্য সবার সচেতন থাকা খুব প্রয়োজন। সবাই যদি ঘরে থাকি আর সব নিয়ম মেনে চলি তাহলেই সব ঠিক হতে পারবে।

নোভেল করোনা কোনো ভয়ের কারণ নয়, আমরা সচেতন থাকলেই সবকিছু ঠিক থাকবে। আমরা একটু সচেতন হলে বেঁচে যাবে পরিবার, বেঁচে যাবে আমাদের দেশ।

এই মহামারি চলে যাওয়ার পর প্রথমেই আমি আমার বন্ধুদের সাথে দেখা করে অনেক আড্ডা দেবো। বাবা-মা, বড়ো ভাই আর আমি অনেক জায়গায় ঘুরতে যাব। অনেক কিছু খাব যা এই হোম কোয়ারান্টাইনে থাকাকালীন খেতে পারছি না।

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাব। দাদা-দাদির সাথে অনেক মজা করব। আমার এসব ভেবে খুবই ভালো লাগছে। আবার নাটকের ক্লাসে যাব। স্কুলের স্যারদের সাথে দেখা হবে। স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করব। বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খেতে যাব। তখন অনেক মজা হবে। কিন্তু কবে যে এই মরামারি শেষ হবে আর কবে যে বাইরে যেতে পারব। হয়তো অচিরেই এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তার আগ পর্যন্ত আমার মতো আপনি, আপনারা সবাই ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন। সুস্থ থাকুন।

‘অমানিশা জাল ছিন্ন করে, আমরাই আনব সুস্থ সকাল।

প্রয়োজনের উচ্ছ্বাস থমকে যাওয়া

বসুধা, দেখবে না এই করোনাকাল।’

দশম শ্রেণি, মানবিক শাখা, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত