করোনাকালের দিনপঞ্জি ৯

পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি মজার মজার ছোটদের বই পড়ছি : মায়মুনা ইসলাম মেধা

চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সেইসঙ্গে সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছোটদের কেউ কেউ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানাচ্ছে কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঘরে থাকার এই সময়ে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে বা খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছে। এ পর্বে দিনযাপনের কথা লিখে পাঠিয়েছে আমাদের ছোট্ট বন্ধু খুদে তারকা মায়মুনা ইসলাম মেধা। শুনে নিই তার করোনার দিনগুলোর গল্প—
পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি মজার মজার ছোটদের বই পড়ছি : মায়মুনা ইসলাম মেধা
অধ্যাপক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে (বামে) এবং চিত্রনায়িকা পরীমনি ও বন্ধুদের সঙ্গে (ডানে নিচে) খুদে তারকা মায়মুনা ইসলাম মেধা

প্রিয় বন্ধুরা, আমার নাম মায়মুনা ইসলাম মেধা। আমি মনিপুর মূল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। কচি-কাঁচার আসরের আমন্ত্রণে আজ আমি তোমাদের বলব আমার করোনাপূর্ব করোনাকালীন দিনযাপনের গল্প।

 

করোনার আগে স্কুলে মজার দিনগুলো :

প্রতিদিন আমি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠি। ৬টায় স্কুল ভ্যান আসে আমাকে নিতে। ৭টার মধ্যে স্কুলের গেইটের ভেতরে থাকতে হয়। তা না হলে স্কুলের গেইট বন্ধ হয়ে যায়। আমার অবশ্য এখন পর্যন্ত স্কুলে ঢুকতে একদিনও দেরি হয়নি স্কুল শুরু হয় সকাল :১৫ টায়। ক্লাস শুরু হওয়া থেকে ছুটি হওয়া পর্যন্ত স্কুলের প্রতিটা ক্ষণই আমি আনন্দে কাটাই। ক্লাস টিচাররা আমাকে অনেক ভালোবাসেন। এমনও হয় যে, টিচার প্রশ্ন পড়তে পড়তেই আমি দাঁড়িয়ে যাই, যাতে প্রশ্নটা আমাকে করা হয়। আমার ব্যাপারটায় অনেক বন্ধু বিরক্ত হয় আবার অনেকেই খুশি হয়। কিন্তু টিচাররা আমার ব্যাপারটায় মজা পান। এরপর অপেক্ষা করি কখন টিফিন টাইম হবে। সে সময়টা আমি মাঠে দৌড়ঝাঁপ খেলতে পছন্দ করি। আমার খেলার সময় কোনো বন্ধু বা অন্য ক্লাসের মেয়েরা যদি হঠাৎ পড়ে যায় বা ব্যথা পায় বা অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে আমি দৌড়ে গিয়ে সেই অসুস্থ বন্ধুকে নিয়ে আমাদের স্কুলের মেডিকেলে যাই। তাছাড়া আমাদের মেডিকেল রুমে যেতেও আমার ভালো লাগে। এখানেও আমার বেশ সুনাম আছে। কারণে মেডিকেলের মিসরাও এখন আমাকে চিনে গেছেন। এই ফাঁকে, ক্লাস নাইনের আপুদের একটা ক্লাসরুম আছে, যেখানে কঙ্কাল আছে, সেটাও চুপিচুপি দেখে আসি। টিফিন টাইমে খেলতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক সময় আমি বড়ো আপুদের হ্যান্ডবল বা বাস্কেটবল খেলায় ঢুকে গেছি। বড়ো আপুরাও আমাকে সুযোগ দেন। দৌড়ে এসে আমাকে তারা জড়িয়ে ধরেন। আমাকে তারা অনেক আদর করেন।

 

করোনাকালীন দিনগুলো :

ঘরবন্দি সময়ে স্কুলের মজার দিনগুলোর অভাব বোধ করছি। অপেক্ষায় আছি কবে আবার প্রিয় স্কুলে যাব!

আমার প্রথম চলচ্চিত্রের সত্তর ভাগ কাজ যখন প্রায় শেষ তখনই সমগ্র বিশ্ব করোনা মোকাবেলায় ব্যস্ত। করোনার জন্য ছবির কাজ অসমাপ্ত রেখেই ফিরতে হয়েছে যার যার ঘরে। ফিরে এসে ধীরে ধীরে জানতে পারলাম আমি শিশু সেলিব্রিটির তালিকায় প্রবেশ করতে যাচ্ছি। সত্যিই এক দারুণ ব্যাপার!

সুন্দরবনে শুটিংয়ে যাওয়ার আগে দুরন্ত টিভিতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তির শুটিং শেষ করেছিলাম। ফিরে এসে সেটা টিভিতে নিয়মিত দেখছি।

ঘরে এসেও শুধু শুধু বসে থাকিনি। বন্ধুদের সাথে গ্রুপে ভিডিও কলে আড্ডা দিচ্ছি। বাসায় পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি মজার মজার ছোটদের বই পড়ছি। এছাড়া পুতুল খেলা, ছাদে যাওয়া, নাচ করা-এগুলো তো আছেই।

ছোটদের বন্ধু প্রিয় জাজাফী ভাইয়ারলিটল জুয়েলস অ্যান্ড এঞ্জেলস’ গ্রুপের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অসংখ্য নতুন বন্ধু হয়েছে। তাদের সাথে গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে আড্ডা দিই। জাজাফী ভাইয়ার লাইভ আড্ডাসেলিব্রিটি নাইট’- লাইভ আড্ডা দিয়েছি। ভারতের শিশুশিল্পী পৃথিবী সিংয়ের সাথে লাইভ আড্ডা দিয়েছি। ঈদে লাইভ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। ঘরে বসেও এবারের ঈদটা খারাপ কাটেনি।

 

করোনাকালীন নতুন কাজ :

ইতিমধ্যে অনেকগুলো কাজ পেয়েছি। কিন্তু দেশের এই দুঃসময়ে সব কাজ করা সম্ভব নয়। তারপরও নিয়ম মেনে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে- আমাদের দেশের বিখ্যাতরূপচাঁদাকোম্পানির একটি ভোজ্যতেল ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করেছি। আরো দুইটা কাজ হাতে আছে। সে দুইটার তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

 

সবার উদ্দেশে :

সবার উদ্দেশে বলব- আমি নিয়ম মেনে চলছি তাই আল্লাহর রহমতে বাসার সবাইকে নিয়ে সুস্থ আছি। আমরা সবাই নিয়ম মেনে চলব। অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাব না। বাইরে গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করব। তবেই ইনশাল্লাহ খুব দ্রুত আগের চেয়েও সুস্থ পৃথিবী ফিরে পাব। সবার জন্য রইল শুভ কামনা। সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

 

চতুর্থ শ্রেণি, মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

 

লেখা পাঠানোর ঠিকানা : [email protected]

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত