করোনাকালের দিনপঞ্জি-১২

কতদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না : সায়মা আহাদ খান তাহিয়া

চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সেইসঙ্গে সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছোটদের কেউ কেউ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানাচ্ছে কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঘরে থাকার এই সময়ে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে বা খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছে। এ পর্বে দিনযাপনের কথা লিখে পাঠিয়েছে আমাদের ছোট্ট বন্ধু সায়মা আহাদ খান তাহিয়া। শুনে নিই তার করোনার দিনগুলোর গল্প—
কতদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না : সায়মা আহাদ খান তাহিয়া
করোনাকালে তাহিয়ার দৈনন্দিন জীবন। দাদা ও ছোট দুই বোনসহ তাহিয়া (মাঝে ওপরে)

আমার নাম তাহিয়া। আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। পরিবার, লেখাপড়া, বন্ধুবান্ধব, স্কুল আর ছবি আঁকাএসব নিয়েই আমার জগৎ। সব মিলিয়ে ভালোই ছিলাম। কিন্তু অজানা এক ভাইরাস যার নাম করোনা (Covid-19)। এ ভাইরাস এসেই আমার ও আমাদের সব কিছুই কেমন থামিয়ে দিয়েছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে চারপাশ। থমকে গেছে পুরো পৃথিবী। কেউ কারো সাথে দেখা করে না। আগে যেমন এ বাসা ও বাসা ঘুরতে যেতাম, এখন আর তা হয় না। লক ডাউন থাকায় সেভাবে কেউ বাসার বাইরেও যায় না।

আমার বাবা যখন শুনলেন সব দিকে লক ডাউন হয়ে যাবে তখনই দেরি না করে আমার মা, আমি ও ছোট দুই বোনসহ আমাদেরকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসেন। আমাদের গ্রামের নাম কাতলাসেন। এটা আমার দাদাবাড়ি। এটি ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত। এ পরিস্থিতিতে যদি ঢাকায় থাকতাম তাহলে এতদিন বের হতে না পারলে আমাদের সত্যি খুব কষ্ট হতো। আসলে শহরে চার দেয়ালে থেকে আমরা অভ্যস্ত তাই পার্থক্যটা এবার এসে বুঝলাম। এখানে আমার দাদা আছেন। দাদার সাথে খুব সু্ন্দর সময় কাটাতে পারছি। ওহ্! তোমাদের বলাই হয়নি আমরা এখানে এসেছি প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে। ভাবা যায়? এর আগে এতদিন গ্রামে থাকার সুযোগ হয়নি। আমার দাদাবাড়িতে অনেক ধরনের ফলের গাছ আছে। নিজেদের গাছের নানারকমের ফল পেড়েছি, কুড়িয়েছি, খেয়েছি। সবচেয়ে মজা সবাই মিলে আম কুড়ানো। কবির সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি : ঝড়ের দিনে দাদার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ!

শুধু কি আম কুড়ানো! বৃষ্টিতে ভিজেছি, গাছ লাগিয়েছি, বোনদের সাথে UNO Cards খেলেছি, সাইকেল চালিয়েছি। এমনকি গাছে উঠেছিযা আগে কখনোই করা হয়নি। এছাড়া আমার প্রিয় কাজ ড্রয়িং, ওয়াল পেইন্টিং করেছি। যখন আমাদের বাসায় ছিলাম পড়াশোনার এত চাপ ছিল যে ইচ্ছে থাকলেও রেসিপি দিয়ে কিছু বানানোর সুযোগ পাইনি। কিন্তু এবার পেরেছি। কেক, ম্যাংগো মিল্কসেক, আম ভর্তা, পটেটো চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কত কি বানিয়েছি!

এভাবেই কাটছে প্রতিটা দিন। কিন্তু কখনো কখনো বন্ধুদের জন্য মন খারাপ হয়। কতদিন তাদের সঙ্গে দেখা হয় না! জানি না আর কতদিন এভাবে থাকব। তবে সব মিলিয়ে সময় ভালোই কাটছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, উনি যেন শীঘ্রই এ মহামারি থেকে আমাদের উদ্ধার করেন। আমরা যেন আবার আগের মতো বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন, আপনজনদের সাথে একসাথে মিলে চলতে পারিএটাই আমার চাওয়া।

সপ্তম শ্রেণি, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

লেখা পাঠানোর ঠিকানা : [email protected]

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত