গল্প

তাসুর ঘরে ভূত

তাসুর ঘরে ভূত
অলঙ্করণ : সানজিদা নাহার, ষষ্ঠ শ্রেণি, বি.এ.এফ শাহীন কলেজ, ঢাকা

ভাদ্র মাস। সকাল থেকেই টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। সন্ধ্যা হতেই বৃষ্টির গতি আরো বেড়ে গেছে। সঙ্গে দমকা বাতাস। আর ঝড়বৃষ্টি শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় চারদিকে অন্ধকার যেন চেপে বসে। এমনিতেই অন্ধকারে তাসুর কেমন গা ছমছম করে। তার ওপর বৃষ্টি। বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার জ্বালিয়ে মা তাড়াতাড়ি সবাইকে রাতের খাবার খাইয়ে দিলেন।

তাসু আর রাসু দুই ভাইবোন একই ঘরে দুটো সিঙ্গেল খাটে ঘুমায়। তাসু পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে আর রাসু পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। পড়া শেষ করতে না করতেই লাইটের চার্জ শেষ। তাই দুই ভাইবোনও ঘুমিয়ে গেল। গভীর রাতে হঠাৎ তাসুর ঘুম ভাঙে প্রচণ্ড বজ্রপাতের শব্দে। এমনিতে সে বেশ সাহসী। কিন্তু ঘুম ভেঙে যেতেই তার কেমন ভয় ভয় লাগে। শুনতে পায় বারান্দায় খসসস খসসস শব্দ। ধোঁয়ার মতন কী যেন দেখা যায় বিজলির আলোছায়ায়। নিশ্চয়ই ভূত এসেছে ওদের ঘরে, ভাবতেই ভয়টা আরো বাড়তে থাকে তার। কাঁথার ভেতর মাথা ঢুকিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখে ছোট্ট তাসু। ওদের বাড়ির জানালা এবং বারান্দার গ্রিলে মোটা নেট লাগানো। সেই নেট ভেদ করে কীভাবে ভূত ঢুকল ভেবেই পায় না তাসু।

লামিয়া তাসুর বন্ধু। লামিয়ার ভীষণ ভূতের ভয়। তারপরও সবসময় ভূত নিয়ে গল্প করে। সেইই একদিন বলেছে ভূতেরা নাকি ধোঁয়ার মতন দেখতে। কোনো কোনো ভূত দেয়াল ভেদ করেও ঘরে ঢুকতে পারে। কিন্তু ওসব কথা তাসু একদম বিশ্বাস করে না। লামিয়া আরো বলেছে, ওদের বাসার পেছনের তেঁতুল গাছে নাকি কালো একটা পেতনি আছে। মাঝে মাঝে সেই পেতনি ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ঢুকে মাছ ভাজা নিয়ে যায়। সেসব গল্প তাসু ওর মাকে বলতেই মা হেসে উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘ধুর পাগলি, ভূত বলে কিছু নেই।’ তাই তাসুও এতদিন বিশ্বাস করেছে ভূত বলে কিছু নেই। কিন্তু আজ তার সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে।

আবারও জোরে একটা বাজ পড়ল কাছে কোথাও। সাথে বিদ্যুতের চমক। সেই মুহূর্তে খসখস শব্দটা আরো বেড়ে গেল। ধপাস করে কিছু একটা পড়ল বারান্দার ভেতর। ভূতটা এবার ঠিক এসে ঘাড় মটকে দেবে তাসুর। ভয়ের চোটে শরীর কাঁটা দেয়। থরথর করে হাত-পা কাঁপতে থাকে। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ‘ভাইয়া, ভাইয়া’ বলে চিৎকার করে। যতই চিৎকার করে গলা থেকে কেবল গো... গো... শব্দই বের হয়। ওর চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় রাসুর। তাড়াতাড়ি টর্চ জ্বালিয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরে সে। ‘ভাইয়া বারান্দায় ভূততত...’ বলে কাঁদতে থাকে তাসু। ভূতের কথা শুনে প্রথমেই একটু ভড়কে যায় রাসু। কিন্তু সে তো বড়ো। তাসুর মতন ভয় পেলে তো চলবে না। তাই সাহস করে টর্চ নিয়ে বারান্দার দিকে এগোয়। তবুও বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করে রাসুর। হঠাৎ টর্চের আলোয় দেখে পাশের বাড়ির বিড়াল মন্টি বারান্দার নেট ছিঁড়ে ঢুকে পড়েছে ভেতরে। বিড়ালের কাণ্ড দেখে ভয়ের মধ্যেও হেসে ফেলে রাসু।

রাসুর হাসি দেখে কান্না ভুলে ফিকফিক করে হাসে তাসুও।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত