আমার কথা

বড়ো হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাই : নাসরিন খাতুন

প্রতি বছরের মতো এবারও শিশু অধিকার সপ্তাহ উদ্‌যাপন উপলক্ষে একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় শিশুদের নিয়ে সাজানো হয়েছে নানারকম কার্যক্রম। এবারে শিশুরা বাড়িতে বসেই বিভিন্নভাবে এ সপ্তাহটি পালন করছে। তারই একটি হচ্ছে শিশুদের অনুভূতি প্রকাশ। মনের কথা জানিয়ে এ লেখাটি লিখেছে ছোট্ট বন্ধু নাসরিন খাতুন। শুনে নিই তার মনের কথা-
বড়ো হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাই : নাসরিন খাতুন
কোলাজ

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই শিশু অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। আমরা বেঁচে থাকতে চাই। বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্য গ্রহণ করতে হয়, অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়, তেমনি মানাসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলার মতো বিনোদন।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিশু অধিকারের আওতায় আঠারো বছরের নিচের বয়সী সকলকে শিশু হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি শিশুর সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার চাই। আমরা যেকোনো কাজে কিংবা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা উন্নয়নের ধারায় অংশ নিতে চাই। আমরা জানি, আগের যুগে মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হতো না এবং ছেলেদেরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। মেয়েদের বোঝা মনে করা হতো। মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের বিশেষ অবদানের কারণে মেয়েরা এখন স্কুলে যেতে পারছে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছে।

আমরা শিশু বিকাশ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন রকম খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারি, ছবি আঁকতে পারি। বিভিন্ন রকম খেলায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার পাই। আমাদের এলাকায় কিছুদিন আগেও মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমানে একশনএইড এলাকায় কাজ করায় সে সমস্যা অনেকটা কমে গেছে। শিশু বিকাশ কেন্দ্র থেকে আমরা বিভিন্ন রকম সহযোগিতা পেয়ে থাকি। এর ফলে আমরা সহজেই পড়াশোনা করতে পারছি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন ঘটছে। যোগাযোগ প্রক্রিয়ায়ও অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। এখন ঘরে বসে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানতে পারি। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতির উন্নয়ন সংস্কৃতিক পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে। এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণে এখন বাল্যবিবাহ অনেকটাই কমেছে।

আমি বড়ো হয়ে একজন শিক্ষিত ও ভালো মানুষ হতে চাই। আমাদের অভিভাবক যদি আমাদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে জরুরি নম্বরে ফোন দেবো যেন আমরা বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচতে পারি। আমরা সুযোগ চাই মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করতে।

নাসরিন খাতুন, অষ্টম শ্রেণি, বয়স : ১৫ বছর, সাপাহার, নওগাঁ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত