করোনাকালের দিনপঞ্জি-১৯

করোনা আমাদের জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতার নাম : মানহা মেহজাবিন মান্যতা

চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পেরিয়ে এসেছি অনেকটা সময়। বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত এ লড়াইয়ে। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। ঘরে থাকার এ সময়ে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে বা খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছে। এ পর্বে দিনযাপনের কথা লিখে পাঠিয়েছে খুদে তারকা মানহা মেহজাবিন মান্যতা। শুনে নিই তার করোনার দিনগুলোর গল্প—
করোনা আমাদের জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতার নাম : মানহা মেহজাবিন মান্যতা
মানহা মেহজাবিন মান্যতা

প্রিয় কচি-কাঁচার আসরের বন্ধুরা, আমি মানহা মেহজাবিন মান্যতা। আমি নার্সারিতে পড়ি। করোনা ভাইরাস আমাদের জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতার নাম, যা আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের পুরোটা সময় আমার বাসায় কেটেছে। প্রথম দিকে ভয় আর আতঙ্কে কেটেছে সময়, কিন্তু আস্তে আস্তে আমি স্বাভাবিকভাবে আমার পরিবারের সব সদস্যদের সাথে সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। স্কুল বন্ধ তাই পড়াশোনার চাপ কম ছিল আর এই সুযোগে আমি অনেক কিছু শেখার ও করার চেষ্টা করেছি। নাচ করতে আমার ভালো লাগে। এসময় আমি অনেকগুলো নাচ শিখেছি। আমার মায়ের প্রিয় শখ বাগান করা। তাই বাগানের পরিচর্যা করার কাজে মাকে সাহায্য করেছি। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকায় স্যুটিং আর ফটোস্যুটকে অনেক মিস করেছি।

লকডাউনে বাবাকে পুরোটা সময় কাছে পেয়েছি। বাবার সাথে মজার মজার গল্পের বই পড়েছি। বাবার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সচেতনতার সাথে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে। ছবি আঁকতে খুব ভালো লাগে আমার। যা আঁকতে মন চায়, এঁকে ফেলি নিজের মতো করে। প্রকৃতি, মানুষ, পশু-পাখি আর পতাকার ছবি এঁকেছি। অংশগ্রহণ করেছি বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতায়। মি. নুডুলস আয়োজিত ‘শিশুর প্রতিভা বিকাশ ক্যাম্পেইন’-এ অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছি। পেয়েছি অনেক সুন্দর একটা উপহার। আগেই বলেছি, নাচতে ভালো লাগে আমার তাই নাচের সাথে গান শেখার চেষ্টা করেছি এবং কিছু গানও তুলেছি।

মায়াজ আর মুয়াজ আমার জমজ ভাই। ওদের বয়স দেড় বছর। অবসরে ওদের সাথে খেলতে আমার খুব ভালো লাগে আর ওরাও খুব খুশিআমি সবসময় ওদের কাছে আছি বলে। এজন্য লকডাউনের এই বন্দি সময়টা খুব খারাপ যায়নি আমার। এ সময়টায় মায়ের সাথে কোরআন তেলোআত শেখার চেষ্টা করেছি।

স্কুলের বন্ধুদের খুবই মিস করি। টিফিন পিরিয়ডে বন্ধুদের খাবার নিয়ে দুষ্টুমি আর মজার মজার সব খেলার কথা মনে পড়ে। নাচের ক্লাস, গানের ক্লাস আর ড্রয়িং ক্লাসকেও অনেক মিস করছি। মজার একটা খেলা শিখেছিলুডু, একইসঙ্গে চেষ্টা করেছি বাবার সাথে দাবা খেলার, যদিও দাবা খেলা আমার কাছে অনেক কঠিন মনে হয়। আমার নানী আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প শুনেছি।

আমি ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল তাই সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে মায়ের সাথে রান্না করার চেষ্টা করি। ডিম ভাজা, আলু ভর্তা, রুটি বানানো আর পাস্তা বানানো শিখেছি। বাসায় ওয়াইফাই লাইন থাকায় ইউটিউব থেকে মজার মজার কার্টুন ভিডিও এবং পড়াশোনার ভিডিও দেখে সময় কাটছে। তবে খারাপ লাগছে গরিব আর অসহায় লোকদের জন্যযারা এই কঠিন সময়ে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছে এবং এখনো করছে। আমি আর বাবা মাঝে মাঝে তাদের কিছু খাবার দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি। মানুষ মানুষের জন্য এই মানবিক শিক্ষাটি পেয়েছি করোনাকালীন সময়ে।

আমি বাইসাইকেল চালাতে পারি, কিন্তু বাইরে বের হতে না পারায় খুব খারাপ লাগে। সময়টা হয়তো খারাপ, তবে সব ঠিক হয়ে যাবে আগের মতোএই প্রত্যাশা মনে আছে। আবারও সবাই ভয়হীন মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেব, ঘুরব মুক্ত বিহঙ্গের মতো, ছুটব সবুজ ঘাসে, চালাব বাইসাইকেল আর মজা করব বন্ধুদের সাথেএমনটাই আশা নিয়ে ফিরব সুন্দর পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত