গল্প

একজোড়া শালিক

একজোড়া শালিক
ছবি : লেখক

রাত যত গভীরের দিকে যেতে শুরু করে এই পরিবেশটার প্রতি আমার ততই ভালোলাগা বাড়তে থাকে। চারপাশে কেমন যেন একটা নিস্তব্ধতা, থমথমে অবস্থা। শব্দের মধ্যে; ঝিঁঝি পোকার ডাক এবং রুমের মধ্যে ছোট্ট পাখার ঘুরতে থাকার আওয়াজটা কানে আসে। আর মাঝেমধ্যে কোথা থেকে যেন আচমকা পাখির ডানা ঝাপটানো শব্দ ভেসে আসে, মনে হয় খুব কাছে কোথাও, কিন্তু দিনের বেলা শত খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস মেলে না। এগুলো বাদে বাকিটা থমকে থাকে, মনে হয় পৃথিবীটাও সারাদিনের ক্লান্তি শেষে এখন মনের সুখে ঘুমোচ্ছে। সারাদিন লোকজনের চিৎকার, চেঁচামেচি, হৈ-হুল্লোড়সহ বিভিন্ন আওয়াজে মানসিকভাবে খুব নির্যাতিত হচ্ছি! কোনোকিছু ভাবতে গেলেই কোথা থেকে একটা অসহ্য শব্দ এসে হাজির হয়, শেষে আর কিছু ভাবতেই পারি না, রাগ করে আর লেখাও হয় না। তাই এই সুযোগে আমার মনের মধ্যে শুধু বাক্যের ঝঙ্কার বাজতে থাকে। আগেকার দিনের বর্ষাকালে বিল-ঝিল, পুকুর, ডোবায় যেমন মাছে মাছে চারদিক কিলবিল করত লোকজন কোনটা রেখে কোনটা ধরবে তার কোনো দিশা খুঁজে পাওয়া পেত না। আমারও এই সময়টায় তেমন একটা অবস্থা হয়। কিন্তু পরের দিনের কথা ভাবতেই আর লেখা হয়ে ওঠে না।

কাল আমি সারাদিন ফ্রি, তাই আজকের রাতটা বাক্যের সাথেই কাটাব বলে ভাবছি। কিন্তু কী লিখব তা ভাবতে ভাবতেই চোখের নজর গিয়ে জানালার ওপর পড়ল। মনে পড়ে গেল সেই বন্ধুদের কথা। যারা নিত্যদিন আমার খোঁজ-খবর নিত। মনে পড়ে গেল সেই কিচির মিচির ধ্বনি। ঠকঠক করে কাঁচের জানালাটা ঠোকরাচ্ছে আর আমাকে ডাকছে শুনছো? বন্ধু, শুনছো আমাদের ডাক?

আরে ভোর হয়েছে এখনো কি ঘুমাতে হয়? বলি আজ কি অফিসে যাবে না? নাকি বন্ধ?

কী হলো? এখনো ওঠো না কেন! ওঠো!

ওদের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল কোনো এক শুক্রবার সকালে। তখন আমার অফিস বন্ধ ছিল। শীতের সকাল। চারদিকে ঘন কুয়াশার জন্য দুই-তিন মিটার পরে গাছপালা, বাড়ি, গাড়ি ঠিক বোঝার উপায় নেই। উত্তরা ঠান্ডা হাওয়া শোঁশোঁ করে আসছে। ভোর ৬টা-৭টার দিকে কাচের জানালাটার খটখট শব্দ আমার ঘুম ভেঙে দেয়। প্রথমে একবার ঘুম থেকে জেগে জানালার কাছে যেতেই ভয়ে ওরা উড়ে যায়। অফিস বন্ধের কথা ভেবে আবার শুয়ে পড়ি, কিন্তু পুনরায় ঠকঠক শব্দ আর ঘুমাতে দিল না। এবার জানালার কাছে গেলাম, কিন্তু ওরা আর উড়ে গেল না, আস্তে আস্তে জানালা খুলে একটু ফাঁক করলাম তা-ও ওরা সরলো না, অথচ কিচির মিচির করে সজোরে চেঁচামেচি শুরু করল—যেন আমি কোনো অপরাধী আর ওরা আমাকে বকা দিচ্ছে! ওদের এই আচরণে আমি হতবাক হয়ে পড়লাম! কী ব্যাপার আমাকে দেখে যাদের ভয়ে পালানোর কথা অথচ না পালিয়ে উল্টো আমাকেই একগাদা কথা শোনায়! ভাবলাম ওদের মনে হয় অনেক ক্ষুধা পেয়েছে তাই একমুঠো ভাত এনে আস্তে করে জানালার ফাঁক দিয়ে ও পাশে রাখতেই ওরা গাপুসগুপুস খেতে লাগল। ওদের এরকম খাওয়া দেখে আমার অনেক মায়া লাগল। আরো একমুঠো ভাত এনে বললাম, কী রে, খুব ক্ষুধা পেয়েছে, তা-ই না? নে পেট ভরে খেয়ে নে। ওরাও পেটভরে খেয়ে চলে গেল। সেদিন আর এল না।

পরের দিন ঠিক একই সময়ে আবার জানালার কাচের গ্লাসে ঠকঠক শব্দ। জানালার ওপর এতই ঠোকরাচ্ছিল যে ঘুম থেকে না উঠে আর পারলাম না। উঠেই জানালা খুলে দিলাম। খুলতেই ওরা কিচির মিচির চেঁচামেচি শুরু করল। ওদের এ ভাষা যেন আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি। ওরা বলছে, গতকালের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, তোমাকে গতকাল না বলেই চলে গেছিলাম কারণ আমাদের বাচ্চারা ক্ষুধার্ত ছিল। আমি বিস্মিত হয়ে ওদের দিকে চেয়ে ভাবলাম, মাত্র দু মুঠো ভাতের কারণে আমি ওদের কাছে এত প্রিয় হয়ে গেলাম যে ওরা আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এল! জীবনে কত মানুষকেই তো কতকিছু দিলাম, ক’জনেই বা এল সামান্য কৃতজ্ঞতাটুকু জানাতে! তারা তো মানুষ, তাদের কত বুদ্ধি, বিবেক, আত্মসংযম দিয়ে গড়েছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। অথচ তাদের থেকে কতই না উপরে স্থান নিল এই পাখি দুটি। আমি পাতিল থেকে দু মুঠো ভাত এনে দিলাম। বললাম, নে খেয়ে নে তোরা। ওরা খেতে লাগল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোদের কয়টা বাচ্চারে?

খেতে খেতে বললো, ৪টা।

—আচ্ছা ওদের আগে কী খাওয়াতিস? খাবার কোথা থেকে আনতি?

—আগে খাওয়াতে হতো না, তিনদিন হলো ফুটলো। দুজনে এখান সেখান থেকে খেয়ে নিতাম।

—দুপুরে কী খাওয়াস?

—এগুলোই দিয়েই কোনোমতে সারাদিন চলে।

—ওহ্, আচ্ছা! তাইলে তোরা দুপুর ১টার দিকে আসিস, কেমন। তখন আমি অফিস থেকে দুপুরের খাবার খেতে আসি।

—আচ্ছা, তুমি বুঝি চাকরি করো?

—হ্যাঁ।

—তাহলে আমরা এখন যাই বন্ধু। বাচ্চারা অনেক ক্ষুধার্ত—এই বলে চলে গেল।

আমি একটু জোরে বললাম, দুপুরে একবার আসিস কিন্তু।

যেতে যেতে বলল, আচ্ছা বন্ধু।

ঘড়ির সময় দেখতে গিয়ে দেখি এখনো অনেক সময় আছে, অফিসে যেতে তাড়াহুড়ো করতে হবে না। আগে যেমন ঘুম থেকে উঠতাম তাতে প্রায় দিনেই না খেয়ে যেতে হতো, নইলে দেরি হয়ে যাবে তাই। ওদের কারণে একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে তো পারি এই ভেবে অনেক ভালো লাগল।

দুপুরে বাসায় গিয়ে ওদের দেখতে পেলাম না। আশপাশে খুঁজলাম, কিন্তু কোথাও দেখা মিলল না।

পরেরদিন আবার জানালার কাচের গ্লাসে ঠকঠক শব্দ। ঠকঠক করে কাচের জানালাটা ঠোকরাচ্ছে আর আমাকে ডাকছে—শুনছো? বন্ধু, শুনছো আমাদের ডাক?

—আরে ভোর হয়েছে, এখনো কি ঘুমাতে হয়? বলি আজকে কি অফিসে যাবে না? নাকি বন্ধ?

—কী হলো? এখনো ওঠো না কেন! ওঠো!

আমি ঘুম থেকে উঠে ওদের জিজ্ঞেস করলাম, কীরে, তোদের কত করে বললাম দুপুরে আসিস, তা এলি না কেন?

বলল, আর বলো না বন্ধু, আমাদের দুটি বাচ্চা খেয়ে ফেলেছে একটা হুলোবেড়াল এসে!—বলেই দুজনে কাঁদতে শুরু করল।

—কী বলিস!

—হ্যাঁ, গতকাল আমরা আসবো এমন সময়ে দেখি একটা হুলোবেড়াল গাছ বেয়ে উঠছে! আমরা দুজনে দুটো ছানা নিয়ে পালালাম আর দুটো খেয়ে ফেলেছে শয়তান বেড়ালটা! এজন্যই আসতে পারিনি, যখন এসেছি তখন তোমাকে পাইনি।

—তোদের বাসা কোথায় ছিল?

—এই বাঁশবাগানের ওইপাশে একটা মোটা নিমগাছে।

—তো এখন কোথায় থাকিস?

—ওখানেই ছিলাম, আজকে নতুন জায়গায় বাসা বাঁধবো।

—আচ্ছা তোরা এই বাঁশবাগানের ওই উঁচু বাঁশঝাড়টা দেখতে পাচ্ছিস?

—হ্যাঁ।

—ওখানেই উঁচুতে বাসা বানা, তাহলে তোদের পাত্তা পাবে না।

—আচ্ছা ঠিক আছে।

—শোন, আজ থেকে বেশি করে খাবার দিবো। তোরা পেটপুরে খেয়ে দেয়ে যখন ইচ্ছা এসে নিয়ে যাবি।

—আচ্ছা ঠিক আছে।

এরকম করে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ একদিন ওরা ছানা দুটোকেও সাথে নিয়ে আসে। ছানা দুটো খেয়ে দেয়ে বেশ মোটাতাজা হয়েছে। বয়স আন্দাজে অনেক বড়োই দেখা যায়। তেমন ভালোভাবে উড়তে পারে না। পড়ে যায় যায়—এমন একটা অবস্থা। ছানা দুটো আমাকে দেখেই এমনভাবে চেঁচামেচি শুরু করছে, মনে হয় আমাকে ওরা হাজার বছর ধরে চেনে। পরক্ষণে ওদের মা-বাবা বলে উঠল, ওরা তোমাকে চেনে। আমরা তোমার সম্বন্ধে সবসবময়ই ওদের সাথে গল্প করি। ছানা দুটো বলল, আপনার সম্বন্ধে আব্বু-আম্মু সবসময়ই আমাদের সাথে গল্প করে। তাদের মুখে সবসময়ই আপনার সুনাম থাকে। তারা বলে, আমরা সারাজীবন জেনে আসছি মানুষ এক হিংস্র জাত। এরা সবসময়ই আমাদের ওপর হিংস্রতা দেখায়। আমাদের গোশত খাবার জন্য, আমাদের মারার জন্য উন্মাদ হয়ে যায়। ওদের জন্য কোথাও শান্তিমতো থাকতে পারি না। অথচ আমরা এমন একজন মানুষের সাক্ষাৎ পেয়েছি যার ব্যবহারে বোঝা যায় আসলে মানুষকে কেন আল্লাহ তাআ'লা শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মনোনীত করেছেন। মানুষটা চাইলে আমাদের খাঁচায় বন্দি করতে পারতো, মারতে পারতো, আমাদের জবাই করে রান্না করতে পারতো। অথচ সে তা না করে আমাদের সাথে উল্টো বন্ধুত্ব করেছে, সাহায্য-সহযোগিতা করছে, আমাদের খাবার দিচ্ছে, কতই না যত্ন করছে। তার এই ঋণ আমরা কখনোই শোধ করতে পারবো না। প্রতিদিন তাদের মুখে আপনার এত প্রশংসা শুনে আমরা আগেই আসতে চেয়েছিলাম একনজর দেখার জন্য। যদি আগে উড়তে পারতাম তাহলে আগেই দেখতে চলে আসতাম। আমি ওদের মুখের দিকে এক ধ্যানে চেয়ে রইলাম আর সব কথাগুলো শুনলাম। ওদের কিছু বলার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কোনো পাখির মনে ঠাঁই পাওয়া একটু-আধটু সুখের কথা না। এর চেয়ে বড়ো সুখ আর কী হতে পারে!

শুধু বললাম, শোনো সোনামণিরা, মানুষ কখনো খারাপ হয় না, হিংস্র হয় না, যারা এরূপ তারা অমানুষ। চেহারা যতই মানুষের হোকনা কেন—মনুষ্যত্ববোধ ছাড়া কখনো সে মানুষ হতে পারবে না। মানুষের কাজই জীবকে সেবা করা। আমি তোমাদের সেবা করাতেই সুখ পেয়েছি, বন্ধু পেয়েছি, সকালবেলা ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে অফিসে যেতে পেরেছি, আমার একাকীত্ব দূর করতে পেরেছি। বলো তোমাদেরও কি কম কৃতিত্ব আছে? তোমরাও তো আমার অনেক উপকার করলে।

কিছুদিন পর সারা বিশ্বে শুরু হলো এক ভয়ংকর আতঙ্ক ‘করোনা ভাইরাস’। চারদিকে হইচই পড়ে গেল। ভয়ে সবাই জড়সড়! বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ল এ জীবনঘাতী ভাইরাস। ঘোষণা করা হলো—দোকানপাট, অফিস-আদালত, যানবাহন, স্কুল-কলেজ সবকিছু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। সবাইকে ঘরে থাকার জন্য বলা হলো। কিন্তু কে শোনে কার কথা? কিছু লোক থেকে গেল, বাকি সবার একটাই কথা—মরবো যখন বাড়ি গিয়ে মরবো, এখানে মরলে লাশটাও দেখার কেউ নাই। আমিও চলে গেলাম। মহামারি ধাই ধাই করে বাড়তেই থাকল, কমার কোনো নাম নাই। এদিকে টাকা-পয়সা সব শেষ করে আরো ঋণ করে ফেলেছি। এখন আর জীবন চলে না। এদিকে অফিসও খোলার অনুমতি দিল সরকার। করোনার মধ্যে অফিস খুলল প্রায় দেড়-দুই মাস পরে। পেটের দায়ে পরিবার বাঁচাতে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আবার ঢাকায় আসতে বাধ্য হলাম। এসেই খুঁজতে শুরু করলাম ওদের। সকাল গেল সন্ধ্যা এল, কিন্তু কোথাও ওদের পাত্তা পেলাম না। ছুটে গেলাম বাঁশবাগানে বাসা খুঁজতে, কিন্তু বাসাটাও আর পেলাম না। চারদিকে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও ওদের হদিস পেলাম না।

প্রায় ভুলেই গেছিলাম শালিকজোড়ার কথা। একদিন দুপুরে লাঞ্চ করতে এসে হঠাৎ করে দেখতে পেলাম। একটা শালিক ডিস লাইনের তারের ওপর বসে আছে। আমাকে দেখতে পেয়েই এমন চেঁচামেচি শুরু করল। মনে হয় অমূল্য এক হারানো ধন ফিরে পেল।

জিজ্ঞেস করলাম, তোর সাথের আরেকটা কই? আজ একা এলি যে? এতদিন কই ছিলি? তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও পেলাম না যে? দেখতে পেলাম ওর দু-চোখে অশ্রু টলটল করছে। আমি আরো বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কীরে, কিছু বলছিস না কেন?

ও বলল, আমার সব শেষ হয়ে গেল।

—কী! সব শেষ হয়ে গেল মানে?

—হ্যাঁ, আমরা দু দিন তোমার এখানে এসে তোমাকে পাইনি, তার পরেরদিনই এক ভয়ংকর ঝড়ে আমার বাসা উড়িয়ে নিয়ে যায়। বাসার সাথে বাচ্চাদেরও নিয়ে যায়, কোথায় যে নিয়ে গেল তার কোনো সন্ধান আজ পর্যন্ত মিলল না। আমি কোনোমতে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম, আর সে আসতে গিয়ে বাঁশের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। তার একদিন পরেই সে মারা যায়।

ওর কথা শুনে আমার গা শিউরে ওঠে! ওদের জন্য খুব মায়া হয়। আহা! কত সুন্দরই না ছিল ছানাদুটো! কত সুন্দরই না ছিলো ওর স্বামীটা! নিজের অজান্তেই চোখে পানি এসে গেল। বুকের ভেতরটা খা-খা করতে লাগল। মনে হলো যেন আমি আমার খুব আপনজনদের হারিয়েছি।

বললাম, আচ্ছা তাহলে তুই কই ছিলি এতদিন? তোকে তো পেলাম না!

—আমি বাসা বেঁধেছি এই শহর থেকে দূরে বহুদূরে একটা বিশাল বড়ো গাছে। সেখানে চারদিকে শুধু গাছ আর গাছ। ঝড়-তুফান হলেও ঝুঁকি কম। তোমার কথা অনেক মনে পড়লো তাই দেখতে এলাম। এর আগেও কয়েকবার এসেছিলাম পাইনি। আচ্ছা বন্ধু, এখন তাহলে বিদায়, বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে, আমার আবার ফিরতে হবে। যেতে যেতে বলল, ভালো থেকো বন্ধু।

আমিও বিাদায় জানিয়ে বললাম, আবার আসিস বন্ধু, নিজের খেয়াল রাখিস।

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত