করোনাকালের দিনপঞ্জি-২০

এই মহামারি যেন চিরতরে চলে যায় : তাসিন-তাজিম

চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা পেরিয়ে এসেছি অনেকটা সময়। বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত এ লড়াইয়ে। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। ঘরে থাকার এ সময়ে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে বা খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছে। এ পর্বে করোনাকালীন দিনযাপনের কথা লিখে পাঠিয়েছে খুদে তারকা দুই সহোদর তাসিন ও তাজিম। শুনে নিই তাদের করোনার দিনগুলোর গল্প—
এই মহামারি যেন চিরতরে চলে যায় : তাসিন-তাজিম
অধ্যাপক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে (বামে) এবং চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে (ডানে) দুই সহোদর তাসিন ও তাজিম

আমরা দুই ভাইতাসিন তাজিম। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমরা দুজনেই পড়ালেখার পাশাপাশি অভিনয় করি। কিন্তু করোনার কারণে স্কুলের সঙ্গে আমাদের শুটিংও বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই পুরোটা সময়ই ঘরে কাটিয়েছি। আমরা দুজনেই এই সময়টাতে ঘরের কাজে আম্মুকে সাহায্য করেছি। আমাদের বারান্দায় অনেকগুলো গাছ আছে, সেগুলোর যত্ন নিয়েছি, পানি দিয়েছি। আমাদের ছোট্ট একটা অ্যাকুরিয়াম আছে। অ্যাকুরিয়ামের মাছগুলোকে খাবার দিয়েছি। তাদের সাথে খেলা করেছি। করোনার কারণে আমরা স্বাস্থ্যসচেতন হতে শিখেছি। আর আমরা আমাদের বাবাকে অনেক বেশি কাছে পেয়েছি। বাবার সাথে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। বাবার সাথে বন্ধুত্বটা অনেক বেড়েছে। সেইসাথে আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও যোগাযোগ বেড়েছে। যাদের সাথে ব্যস্ততার কারণে খুব কম যোগাযোগ হতো, তাদের সাথেও অনেক বেশি সময় যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। আমি তাসিন, ছবি আঁকতে ভালোবাসি। এই সময়ে অনেকগুলো ছবি এঁকেছি। ছবি এঁকে আমিইউনিসেফ সুপারস্টারঅ্যাচিভমেন্ট করেছি। এর বাইরেও দৈনিক পত্রিকাসহ ছোটদের নিয়ে কাজ করা অনেক পাতায় আমার আঁকা ছবি প্রকাশিত হয়েছে। আমি তাজিম, মুভি দেখতে অনেক ভালোবাসি। করোনার সময়ে অনেকগুলো মুভি দেখেছি। আর অনলাইনে গেমিং করেও সময় কাটিয়েছি। এই সময়টাতে আমরা দুজনেই বন্ধুদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছি অনলাইনে। আমাদের ক্লাসের বন্ধু, মিডিয়ার বন্ধু সুন্দরবন সিনেমায় আমাদের সাথে অভিনয় করা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় পার করেছি। সব মিলিয়ে অনলাইনের ওপর একটু ঝোঁক বেড়ে গেছে। ওজন কমানোর চেষ্টা করছি দুজনে, কারণ আম্মু অনেক বকেন এটা নিয়ে। আর করোনাকালীন সরকারি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেই আমরাঅ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিংয়ে চলে যাই। ঘরবন্দি সময়ের অপূর্ণতা অনেকটাই ঘুচিয়ে দেয় এই মুভির শুটিং। এখন আমরা একটু একটু করে বাইরে বের হচ্ছি সচেতনতা অবলম্বন করে। আমাদের শুটিংয়ের ব্যস্ততাও বেড়েছে। তবুও স্কুল না খোলায় ভালো লাগছে না। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের প্রিয় স্কুলে যাওয়ার জন্য। এই মহামারি যেন চিরতরে চলে যায়, আর আমরা যেন আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে পারি।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x