গল্প

শিকারি তিতলি ও দুষ্টু ইঁদুর

শিকারি তিতলি ও দুষ্টু ইঁদুর
অলঙ্করণ : আশরাফ

পুষ্পা। পুরো নাম পুষ্পকলি। পরিবারের সবচে’ কনিষ্ঠ সদস্য। পুষ্পার বন্ধু তিতলি। তিতলি হচ্ছে পরিবারের নবাগত সদস্য। ছোট্ট বিড়ালছানা। পুষ্পা আদর করে নাম রেখেছে তিতলি। শরীরটা তার নরম তুলতুলে। ধবধবে শাদা লোমে ঢাকা। তিতলির প্রিয় খাবার খাঁটি গরুর দুধ।

তিতলি সবসময় পুষ্পার সাথে থাকে। পুষ্পার সাথে খায়-দায়। আবার পুষ্পার সাথেই ঘুমায়। তিতলি খুব শিকারি। পুষ্পার সব কথা ও বোঝে।

পুষ্পা ও তিতলি যে রুমে ঘুমায় সে রুমে বাস করে একটা ইঁদুর। ইঁদুরটা খুব চালাক ও দুষ্টু। পরিবারের সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন সে পুরো ঘরে রাজত্ব করে। চড়চড় শব্দ আর লাফালাফি করে বেড়ায়। কাপড় কাটে, কাগজ কাটে। এমনকি খামার ঘর থেকে হাঁস-মুরগির ডিমগুলোও লাপাত্তা হয়ে যায়।

ইঁদুরের এমন অত্যাচারে পরিবারের সবাই অতিষ্ঠ। ভাবছে এখন কী করা যায়। কীভাবে ইঁদুরটাকে তাড়ানো যায়। কয়েকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। চালাক ইঁদুরের কাছে সব কৌশলই ব্যর্থ।

একদিন পুষ্পা তিতলিকে বলল, তিতলি, তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। পারবে? তিতলি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, পারব। পুষ্পা বলল, ধন্যবাদ তোমাকে। কাজটা হলো রাত জেগে আমাদের ঘরের দুষ্টু-চালাক ইঁদুরটাকে তাড়াতে হবে। বিনিময়ে তোমাকে পুরস্কৃত করব। তিতলি এক লাফে পুষ্পার কোলে উঠে বসল। আবারও মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

গভীর রাত। নিস্তব্ধ চারদিক। একটানা ঝিঁঝিপোকা ডেকে যাচ্ছে। তিতলি এখনো ঘুমায়নি। কারণ, তার বন্ধু পুষ্পার নির্দেশ তাকে পালন করতে হবে। যেভাবেই হোক আজ দুষ্টু ইঁদুরটাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে।

হঠাৎ তিতলি কিসের যেন শব্দ শুনতে পেল। কান খাড়া করল সে। চড়চড়-চিকচিক শব্দ। শব্দটা আসছে পুষ্পার খাটের নিচ থেকে। তিতলি চুপিচুপি দেখে, দুষ্টু ইঁদুরটা কী যেন খুঁজছে! তিতলি ধীরে ধীরে দুষ্টু ইঁদুরের ওপর হামলে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ইঁদুরটা ভীষণ চালাক। তিতলির উপস্থিতি টের পেয়েই দিল ভো-দৌড়। এক দৌড়ে কোথায় যে পালাল, তিতলি তাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আর পেল না। আজ আর কাপড়, কাগজ কাটা নেই। খামারঘরের হাঁস-মুরগির ডিমগুলোও ঠিকঠাক আছে। ঘরের কোনো কিছু এলোমেলো নেই। সব ঠিক আছে।

এরপর থেকে আর কখনো ইঁদুরটাকে তিতলিদের বাড়ির ত্রিসীমায় দেখা যায়নি।

পরদিন সকালে পুষ্পা তো অবাক! শিকারী তিতলিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দিল এবং এককাপ খাঁটি গরুর দুধ উপহার দিল।

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত