মিজোরামের লোককাহিনি

পরি ও শিকারি

পরি ও শিকারি
অলংকরণ : সায়মা আহাদ খান, সপ্তম শ্রেণি, মনসিজ আর্ট একাডেমি

আগে পরিরা যখন খুশি তখন নেমে আসত পৃথিবীতে। ঘুরে বেড়াত, মেতে উঠত খেলায়। তাদের খুব পছন্দ ছিল জল টলটলে পুকুরে সাঁতারকাটা।

মিজোরা খুব আমোদপ্রিয় জাতি, নাচ-গান খুব পছন্দ করে। মিজোরামের উৎসবের নাম কূট, সারা বছরে তারা তিনটি কূট পালন করে। সবচেয়ে বড়ো কূট বা উৎসব হয় ডিসেম্বরে। উৎসবের সময় মিজোরা রঙিন পোশাক পরে নেচে-গেয়ে আকাশ-বাতাস মুখর করে তোলে। আর এই সময় পরিরা পৃথিবীতে নেমে আসে। একবার উৎসবের সময় তারা দলবেঁধে নেমে এসে তাদের পছন্দের এক পুকুরপাড়ে তাদের পোশাক খুলে রেখে স্নান করতে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যে পরির দল মেতে ওঠে জলক্রীড়ায়। এই সময় এক যুবক কূট উত্সবে যোগ দেওয়ার জন্য ঐ পুকুরের পাড় দিয়ে যাচ্ছিল। যুবকটি দূর থেকে পরিদের দেখে এবং গাছের আড়ালে লুকায়। এই সময় তার মনে দুষ্টবুদ্ধি জাগে। সে চুপি চুপি লুকিয়ে পরিদের পোশাকের কাছে চলে আসে। পোশাকের স্তূপ থেকে একজনের পোশাক নিয়ে সে আবার আড়ালে লুকায়। কিন্তু তার লুকানো দেখে ফেলে এক পরি। সে জানায় অন্যদের। পরিরা ভীত হয়ে দ্রুত উঠে যার যার পোশাক নিয়ে উড়ে যায় আকাশে। শুধু একজন, যার পোশাক চুরি করে লুকিয়েছে যুবকটি, সেই পরি রয়ে যায় পুকুরের পানিতে। সে উঠতে পারে না। উড়ে পালাতেও পারে না।

পুকুর থেকেই পরি কাতর গলায় অনুনয়-বিনয় করে যুবকটির কাছে, বলে—

তুমি আমার পোশাক ফিরিয়ে দাও আমি তোমাকে একটা ভালো উপহার দেবো।

কী উপহার? জানতে চায় যুবক।

এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে পরি বলে, শিকার। তুমি চাইলে প্রচুর শিকার পাবে। তবে একটা অনুরোধ, সাদা মুখ যে পশুর তাকে বধ করবে না। কারণ ওটি আমার খুব প্রিয়। আমি ওর সাথে খেলা করি।

যুবকটি পোশাক ফিরিয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। পরি তার পোশাক নিয়ে উড়ে যায়।

এরপর থেকে যুবকটির শিকারের পশুর আর অভাব হয় না। ক্রমাগত শিকার করে চলে। কিন্তু একসময় যুবকটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এত পশুনিধন, এত মৃত্যু দেখে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সে প্রার্থনা করে পরিকে ডাকে। পরি যুবকটির ডাকে সামনে আবির্ভূত হয়। যুবকটির প্রার্থনা শুনে পরি ফিরিয়ে নেয় তার বিশেষ উপহার। যুবকটি আবার হয়ে যায় একজন সাধারণ শিকারি, সে আগে যেমন ছিল।

সারকথা : কোনো জিনিস অতিরিক্ত হলে তার স্বাদ থাকে না।

[আমাদের দেশের পূর্বে ভারতের ২৩ নং রাজ্য মিজোরাম। মিজো ভাষার মিজোরাম পাহাড়ি মানুষের দেশ। রাজধানীর নাম আইজল—অর্থ ফলের বাগান। পুরো দেশটিই পাহাড়ি, দেশের এক তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল। তাই মিজোরাম বনজ ও পশুসম্পদে সমৃদ্ধ। দেশটির আয়তন ২১,০৮৭ বর্গকিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ১,১১৬ মিলিয়ন। দেশের লোকদের বলা হয় মিজো, কুকি বা লুসাই। আমাদের দেশের তিন পাহাড়ি জেলাতেও মিজো, কুকি বা লুসাইরা বাস করে।]

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x