ফিচার

চুইংগাম আবিষ্কার!

চুইংগাম আবিষ্কার!
চুইংগাম

বন্ধুরা, তোমরা সবাই তো চুইংগাম খেতে ভালোবাসো। কিন্তু তোমরা কি জানো এই চুইংগাম আবিষ্কার হয়েছে কীভাবে? ১৮৭০ সালে টমাস অ্যাডামস Chicle (দক্ষিণ আমেরিকার একটা গাছের রস) নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে রাবার বানানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়ে তিনি সেই জিনিসটি মুখে পুরে ফেলেন। তারপর? সেটি মুখের মধ্যে বাবল তৈরি করে এবং তিনি তৎক্ষণাৎ তা পছন্দ করে ফেলেন। তিনি প্রথম মডার্ন চুইংগামকে বাণিজ্যিক রূপ দেন। তার ফ্যাক্টরি নিউ ইয়র্কের ১ নম্বর চুইংগাম ফ্যাক্টরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এভাবেই রাবার বানানোর চেষ্টা থেকেই আবিষ্কৃত হয় চুইংগাম!

২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ন্যাচার কমিউনিকেশন্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ৫,৭০০ বছর আগেও চুইংগাম ছিল! ডেনমার্কে খননকার্য চালিয়ে দেখা যায়, প্রস্তরযুগের বেশকিছু জিনিসের মধ্যে রয়েছে এই চুইংগামটি। এটি মূলত বার্চ গাছের জমে যাওয়া রসের এক খণ্ড, যা চুইংগামের মতো ব্যবহার করেছেন তখনকার এক শিকারি তরুণী। তাহলে কি তখনো, আমরা যেমন চুইংগাম খাই, তেমন চুইংগাম খাওয়া হতো? সেই উত্তর খুঁজতে চুইংগামের ইতিহাস জানতে হবে।

প্রাকৃতিক চুইংগামের চল অনেক হাজার বছর থেকে আছে বলেই জানা গেছে। প্রাচীন গ্রিক জাতি ম্যাসটিক গাছের আঠালো রস চিবাত, প্রাচীন মায়ান জাতি স্যাপোডিলা গাছ এবং প্রাচীন ভারতীয়রা স্প্রুস গাছের রস চুইংগাম হিসেবে চিবাত। প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চুইংগাম উত্পাদনের আইডিয়া আসে ১৮৪৮ সালে জন বেকন কার্টিসের মাথায়। তিনি স্প্রুস গাছের রসের সাথে বিভিন্ন ফ্লেভার যুক্ত করে চুইংগাম উৎপাদন শুরু করেন। ‘Curtis Chewing Gum Factory’ প্রথম চুইংগাম ফ্যাক্টরির নাম। কিন্তু তখনকার চুইংগামগুলোতে বেশিক্ষণ ফ্লেভার থাকত না। এই সমস্যার সমাধান করেন উইলিয়াম হোয়াইট—যিনি চুইংগামের সাথে চিনি আর কর্নের সিরাপ যুক্ত করেন। সেইসঙ্গে কিছু পিপারমেন্ট যুক্ত করেন—যেগুলো ফ্লেভার ধরে রাখতে সহায়তা করে। ড. এডওয়ার্ড বিমান পেপসিন পাউডার যুক্ত করে হজমে সহায়ক চুইংগাম আবিষ্কার করেন। তারপর আস্তে আস্তে আরো ফ্লেভার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হতে থাকে, বিভিন্ন নতুন নতুন জিনিস যুক্ত করা হয়, সেইসঙ্গে প্রথম চুইংগামের জন্য ভেন্ডিং মেশিন নিউ ইয়র্কে স্থাপন করা হয়। টমাস অ্যাডামের চুইংগাম Tutti-Frutti প্রথম ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এভাবে আস্তে আস্তে চুইংগামের ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

চুইংগাম সম্পর্কে তো অনেক কিছুই জেনে ফেললাম। এবার একটু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও জেনে নিই। কথিত আছে যে, চুইংগাম গিলে ফেললে তা ৭ বছর পর্যন্ত হজম না হয়েই নাড়িভুঁড়ির মধ্যে থেকে যায়। কিন্তু গবেষকরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, চুইংগাম বেইজের সাথে নরমকারক উপাদান, সুগন্ধ, মিষ্টিকারক উপাদান এবং শস্য সিরাপ মিশিয়ে চুইংগাম তৈরি করা হয়। গাম অর্থাৎ চুইগাম বেইজ ছাড়া এর অন্যান্য সব উপাদানই মুখলালার সাথে দ্রবীভূত হয়ে যায়। তাই ৭ বছর ধরে গাম পেটের নাড়িভুঁড়ির মধ্য থাকার গল্পটি শুধুই কুসংস্কার। যদি ভুল করে চুইংগাম চিবানোর পর গিলেও ফেল—তাহলে তা টয়লেটে বের হয়ে যাবে। তবে বেশি পরিমাণ চুইংগাম খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। মিষ্টিহীন চুইংগামে ব্যবহৃত সর্বিটল, সিনামন ইত্যাদি সুগন্ধি ব্যবহারের কারণে মুখে ঘা হয়। আবার অতিরিক্ত চুইংগাম চিবানোর কারণে রক্তে পারদের উচ্চহার, দাঁতের নানা রোগ প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একটু বুঝে শুনে চুইংগাম খাওয়া ভালো।

তোমরা জানো, মাত্রাতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়। তবে অল্প-স্বল্প চুইংগাম খেলে ক্ষতির কিছু নেই।

নবম শ্রেণি, সরকারি পি এন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x