চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী

চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী
চুলের যত্নে অ্যালোভেরা যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ছবি: সংগৃহীত

শীতকালে চুল অনেক বেশি রুক্ষ, শুষ্ক ও মলিন হয়ে যায়। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই চুল উঠতে ও ভেঙে পরতে শুরু করে। বাজারে পাওয়া প্রসাধনীর মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। অ্যালোভেরা মূলত ফণীমনসার ন্যায় দেখতে; যার ভেতরের জেলির মত সাদা অংশই প্রধানত চুলের যত্নে, পাশাপাশি মুখের যত্ন ছাড়াও আরো নানাবিধ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

অ্যালোভেরা জেল করে চুলে ব্যবহার করতে হয়। অ্যালোভেরা জেল বাজারেও কিনতে পাওয়া যায়; তবে ঘরে বানানো হলে তার কার্যকারিতা বেড়ে যায়। জেলটি ঘরে বানানো সহজ।

অ্যালোভেরা নিয়ে তার খোসা আলতভাবে একটি চাকুর সাহায্যে তুলে নিতে হবে। ভেতরের সাদা অংশটিকে আলাদা করে নিতে হবে এবং একটি ব্লেন্ডারের সাহায্যে সেটাকে পাতলা জেলে পরিণত করে নিতে হবে। এই জেলকে কমপক্ষে ৭ দিন রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা যাবে।

চুলে অ্যালোভেরা জেলের ব্যাবহার করা অনেক সহজ। চুল যদি খুব বেশি রুক্ষ হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একটা ডিমের সাথে এই জেলটি মিশিয়ে চুলে মাসাজ করতে হবে। তারপর একটা ভেজা তাওয়াল অথবা গামছা দিয়ে কমপক্ষে ২ ঘণ্টার জন্য মাথা পেঁচিয়ে রেখে দিতে হবে। তারপর খুব ভাল করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া হয়ে গেলে তবেই শ্যাম্পু দেওয়া যাবে। এরপর শ্যাম্পু করে নিতে হবে এবং অ্যালোভেরা জেল ব্যাবহার করা হলে সেদিন কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কারণ অ্যালোভেরা জেল নিজেই অনেক ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

যদি অতিরিক্ত চুল পরতে থাকে তাহলে জেলটিকে আরো দুই ধরনের তেলের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে; হতে পারে নারিকেল তেল, বাদামের তেল, কালোজিরার তেল ছাড়াও অন্যান্য তেল। তবে নারিকেল তেল ও অলিভ অয়েল হলে বেশি ভালো ফল পাওয়া যাবে।

নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল ও অ্যালোভেরা জেলটি একত্রে মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার ব্যবহার করতে হবে। অবশ্যই ভালো মত স্কাল্পে মাসাজ করে সারা রাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

অ্যালোভেরায় রয়েছে পর্যাপ্ত মিনারেল, কপার, এবং জিংক। যা চুল বৃদ্ধির কাজ করে। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত