অন্দরে আয়নার সাজ

অন্দরে আয়নার সাজ
ছবি : সংগৃহীত

শৌখিন আসবাব ঘরে নিয়ে আসে শৈল্পিকতার ছোঁয়া। তাই দৈনন্দিন গৃহসজ্জায় এখন নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবের পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে শৌখিন আসবাবের বিষয়টিকেও। এখন গৃহসজ্জায় আয়নার ব্যবহার অনেক বেশি। ছিমছাম বসার ঘর থেকে ছোট স্নানঘর সব ক্ষেত্রেই অন্দরসজ্জায় করা হচ্ছে আয়নার ব্যবহার।

নিজের অবয়ব দেখতে আয়নার গুরুত্ব অপরিসীম। নিজের চেহারার গড়ন সম্পর্কে প্রত্যেকেই অবগত হলেও আয়নায় নিজেকে দু-তিনবার দেখা যেন প্রতিদিনের কাজ। তবে অন্যকে সাজাতে ব্যবহূত এ আয়নাটি কখনও নিজেই সেজে ওঠে ঘরের কোনো দেয়ালজুড়ে। একটি নান্দনিক আয়না পাল্টে দিতে পারে ঘরের গুমোট পরিবেশ। আয়না দিয়ে ঘরের সাজে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা নানা চেষ্টা করছেন।

শোবার ঘরে আলাদা করে ড্রেসিং টেবিল রাখতে না চাইলে আলমারির পাল্লায় বড় আয়না লাগিয়ে নিন। এ ছাড়া বড় ফ্রেমে আয়না বাঁধিয়ে বসিয়ে দিন দেয়ালজুড়ে। এজন্য জানালার বিপরীত দেয়ালটা বেছে নিন। এতে একটা বাড়তি সুবিধা পাবেন। বাইরের আলো আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে ঘরটা বড় দেখাবে। আবার একটা পুরো দেয়াল খালি থাকলে বসার ঘরের মতো করে আয়না আর পারিবারিক ছবি গুচ্ছ করে সাজাতে পারেন। এতে ঘরের সাজে বেশ বৈচিত্র্য আসবে।

বিভিন্নভাবে বসার ঘরে আয়না ব্যবহার করা যায়। একটা দেয়ালে ভিন্ন রং দিয়ে তাতে সুন্দর একটা আয়না লাগান। চাইলে বড় একটা আয়না লাগাতে পারেন। আবার ছোট বা মাঝারি একটি আর কয়েকটি বাঁধানো ছবি গুচ্ছ করে সাজাতে পারেন। বসার ঘরের ফার্নিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়নার ফ্রেম নির্বাচন করুন। দেশীয় সাজের সঙ্গে নকশিকাঁথা ও শীতল পাটি দিয়ে ফ্রেম বানিয়ে নিতে পারেন। আবার চাইলে মাটির টেরাকোটার ফ্রেম করা আয়না ব্যবহার করতে পারেন।

মডার্ন সাজে ব্যবহার করুন কারুকাজ করা কাঠ, পোরসেলিন, মেটাল বা হ্যান্ডপেইন্টের আয়না। এ ঘরে আয়নায় কাঠের সঙ্গে পিতল বা তামার ব্যবহার হলে বেশি গর্জিয়াস লুক আসে। বসার ঘরটা বড় দেখাতে চাইলে জানালার বিপরীত দিকে আয়না লাগান। এতে আলোর প্রতিফলনে ঘরটা আরও উজ্জ্বল ও বড় মনে হবে। খাবার ঘরে একাধিক আয়নার ব্যবহার না করাই ভালো। বেসিনের আকৃতি অনুযায়ী এর ওপর একটা নকশাদার আয়না বসান। খাবার ঘরটা ছোট হলে খাবার টেবিলের সমান্তরালে বিপরীত দেয়ালে আয়না ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবার ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার পথে প্যাসেজ বা একটা দেয়াল থাকলে সেখানেও আয়না ব্যবহার করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ রাখুন খাবার টেবিল থেকে যেন আয়নাটি দেখা না যায়।

কোথায় পাবেন

আড়ং ও যাত্রায় আছে ছোট-বড় নানা আকৃতির আয়না। মোহাম্মদপুরের আইডিয়া ক্রাফটে বেশ বড় আকারের আয়না পাওয়া যাবে। সেখানে নকশিকাঁথার মাঠ, সূর্য, হাতি, বনজঙ্গল প্রভৃতি অলংকরণে বিশালাকৃতির ফ্রেমের আয়না পাবেন ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। আড়ংয়ে নকশার ওপর নির্ভর করবে আয়নার দাম। সাদামাটা কাঠের ফ্রেমের আয়না ৮০০-৪০০০ টাকা, কাঠের কারুকাজ করা আয়না ১৫০০০-২০০০০, হ্যান্ড পেইন্টিং লুকিং গ্লাস পাওয়া যাবে ৫০০-১২০০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিষয়ভিত্তিক আয়না তৈরি করতে চাইলে চলে যেতে পারেন পিঁড়ি কথনে। বর্ণমালা আয়না ২০০০-৪০০০ টাকা, সাম্পান ও সাজের আয়না ৩৫০০০-৪০০০০ এবং হাতপাখার আয়না ২০০০ টাকা। এ ছাড়া আজিজ সুপার মার্কেট, যাত্রা ও শিশু একাডেমীতে পাবেন এসব সুদৃশ্য নকশার অলংকরণে আয়না।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x