ভেষজ

তিলের তেল

তিলের তেল
[ছবি: সংগৃহীত]

তিলে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকে। এক আউন্স তিলে (বীজ) ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম আছে। তিলে সিসেমিন নামে একটি উপাদান থাকে যা দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে। সিসেমিন রক্তচাপ কমায় এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল এবং টোটাল কোলেস্টেরল কমায়। তিলের প্রোটিন কমায় হৃদরোগের ঝুঁকি।

তিলে ক্যালসিয়াম ছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম, কপার, জিঙ্ক, আয়রন, থায়মিন ও ভিটামিন ‘ই’ থাকে। সিসেমিন ছাড়াও তিলে সিসেমলিন আছে। তিলের ফাইটোস্টারলস ও লিগন্যান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে তিসির পরেই তিলের অবস্থান। তিলে পুষ্টি উপাদান অনেক, অথচ কোলেস্টেরল নেই। তিলে মিথিওনিন ও ট্রিপটোফ্যান জাতীয় উঁচু মানের প্রোটিন বা অ্যামাইনোঅ্যাসিড আছে যা অনেক উদ্ভিদজাত প্রোটিনে নেই। লিভার, কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শোষণে এই জাতীয় প্রোটিনের কার্যকর ভূমিকা আছে।

তিলের তেলে পর্যাপ্ত পলি আনসেচুরেটেড চর্বি থাকে যা স্বাস্থ্যপ্রদ। এই তেলে ফ্রাই বা ভাজি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে না। সাদা, কালো, বাদামি ও লাল বর্ণের তিল বেশি জনপ্রিয়। তিলের নাড়ু, খাজা, বিস্কুট এবং রান্নায় তিলের ব্যবহার আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। এশিয়া, আমেরিকা, চায়না, জাপান, মেক্সিকোসহ পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই তিলের গাছ জন্মে।

তিলের বৈজ্ঞানিক নাম Sesamum indicum। বর্ষজীবী, প্রায় ৬ ফুট দীর্ঘ, ফল পড জাতীয়। পাতা অবলং। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে থেকে তিল ব্যবহার হয়ে আসছে। তিলের তেল খুবই মূল্যবান। সম্ভবত এই তেলই সর্বপ্রথম ব্যবহৃত তেল। জলপাই তেলের আগেও। মিশরীয়রা তিলের ময়দা এবং রোমানরা তিলের বীজ দিয়ে রুটি তৈরি করত। হাজার বছর ধরে চাইনিজরা তিল ব্যবহার করে আসছে।

পাশ্চাত্যের বহুদেশে বার্গার, নান ও অন্যান্য খাবারে তিল ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে তিলের তেল, হালুয়া, তাহিনির আচার জনপ্রিয়। আমাদের দেশেও তিলের চাষ ও এর ব্যবহার ব্যাপক ও জনপ্রিয়।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x