ফুল পঞ্চমুখী জবা

ফুল পঞ্চমুখী জবা
ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির উঠোনে বা আনাচে-কানাচে কিংবা বাড়ির ছাদে দেখা যায় উজ্জ্বল লাল রঙের এই ফুলটিকে। একনজরে মন কাড়লেও এর কদর বোঝে না সবাই। এটি জবা ফুলের একটি প্রজাতি। জবার কয়েক শ প্রজাতি রয়েছে—জবা, রক্তজবা, পঞ্চমুখী জবা, জবা কুসুম, মরিচা জবা ইত্যাদি। এদের একটি পঞ্চমুখী জবা বাংলাদেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণ জবা থেকে বেশ আলাদা। দেখে মনে হবে কয়েকটি জবা একসঙ্গে এক হয়ে আছে!

জবা মালভেসি গোত্রের চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্ম, যার উত্পত্তি পূর্ব এশিয়ায়। এটি ‘চীনা গোলাপ’ নামেও পরিচিত। ১৭৫৩ সালে বৈজ্ঞানিক ক্যারলাস লিনেয়াস জবার নাম দেন হিবিস্কাস রোসা-সিনেন্সিস। লাতিন শব্দ ‘রোসা সিনেন্সিস’-এর অর্থ ‘চীন দেশের গোলাপ’, যদিও গোলাপের সঙ্গে জবার কোনো সম্পর্ক নেই।

জবাগাছের উচ্চতা আড়াই থেকে পাঁচ মিটার (৮ থেকে ১৬ ফিট) ও প্রস্থ দেড় থেকে তিন মিটার (৫ থেকে ১০ ফিট)। সাধারণত এর পাতা চকচকে ও ফুল উজ্জ্বল লাল রঙের—পাঁচ পাপড়িযুক্ত। ফুলগুলোর ব্যাস ১০ সেন্টিমিটার (৪ ইঞ্চি) এবং গ্রীষ্ম ও শরত্ কালে ফোটে। যেহেতু জবা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না, তাই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জবাগাছকে গ্রিনহাউসে রাখা হয়। জবাগাছের বিভিন্ন সংকর প্রজাতির ফুলের রং সাদা, হলুদ, কমলা ইত্যাদি হতে পারে।

জবা ভেষজগুণেও সমৃদ্ধ। বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রস্রাব হলে এক চা চামচ জবাগাছের ছালের রস পানিসহ পাঁচ-সাত দিন খেলে উপশম হয়। অতিরিক্ত খাওয়ার পর অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হলে চার-পাঁচটি জবাফুল বেটে বা চটকে শরবত করে খেলে বমি হয়ে অস্বস্তি দূর হবে। তবে শারীরিক কোনো সমস্যায় চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল, দাড়ি, গোঁফ বা ভ্রুতে Fungul Infection বা এলোপেসিয়া এরিয়েটা হলে জবাফুল বেটে প্রলেপ লাগালে উপকার হয়। চোখের কোণে ক্ষত হয়ে পুঁজ জমলে জবাফুল বেটে চোখের ওপর ও নিচের পাতায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়া সাধারণ চর্মরোগে বা হাতের শুকনো চামড়া উঠতে থাকলে লাল জবা হাতের তালুতে দিনে কয়েকবার ঘষলে তা সেরে যায়। চোখ ওঠা দূর করতে জবাপাতার প্রলেপ দিলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। সর্দি ও কাশিতে জবাফুল বেটে রস করে পানিতে মিশিয়ে খেলে রোগী সুস্থ হয়। চুলের বৃদ্ধির জন্য জবাপাতার রস তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগালে উপকার মেলে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x