জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে যা করবেন

জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে যা করবেন
জাতীয় পরিচয়পত্র। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে জেলের ঘানি টানার মতো বিপাকেও পড়তে পারেন। মুখোমুখি হতে পারেন বহুমুখী ঝামেলায়। তাই এখনই আপনার এনআইডি কার্ড উদ্ধারে তৎপর হোন। এছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদেশ গমন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাজে এনআইডি কার্ড ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রকে একটি অলিখিত দলিল বললে ভুল হবে না।

আপনি কি কোনো সময় নিজের কাছে প্রশ্ন করেছেন? আপনার হারানো ভোটার আইডি কার্ড এখন কোন জায়গায়? যদি এমন কোনো অপরাধীর হাতে অথবা আপনার শত্রুর হাতে পড়ে তবে বলা যেতে পারে আপনি কি শেষ! হ্যাঁ, বলা যেতেই পারে আপনি খুব সম্ভব বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। হতে পারে কোনো মার্ডার কিংবা বা অপরাধ সংঘটন স্থান বা কোনো অপরাধমূলক কাজে আপনার আপনার ভোটার আইডি কার্ড ফেলে রেখে আসা হয়েছে কিংবা ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন সব ঘটনায় আইনি জটিলতা আর ঝামেলায় আপনার কপাল পোড়া শুরু হলো। বিচার প্রমাণ শেষ হতে হতে আপনার জীবনের বারোটা বেজে যাবে।

এজন্য একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। জিডির কপিটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করুন। সংরক্ষিত এই কপিটি নিয়ে থানা বা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

প্রয়োজনমতে, ঢাকাস্থ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প’ এর পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে। অথবা এই আবেদন আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে ৭ তলা প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে করাটাই উত্তম। তবেই আপনি আইনগতভাবে আশ্রয় এবং বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন।

আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, এনআইডি কার্ড হারানো ও সংশোধনের জন্য একইসঙ্গে আবেদন করা যায় না। আগে হারানো কার্ড তুলতে হবে। পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। আর অনলাইনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন করতে চাইলে এনআইডির পোর্টাল অন করার পর একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টে রকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। আপনি চাইলে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমেও পরিশোধ করতে পারেন। প্রথম যেকোনো তথ্য সংশোধনের জন্য ২০০ টাকা, দ্বিতীয় বার ৩০০ টাকা এরপর প্রতিবারে ৪০০ টাকা ফি দিতে হবে। নতুন তথ্য সংযোজনের ক্ষেত্রে প্রথমবার ১০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি গুনত হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র আইন, ২০১০ এর ৯ ধারায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধনের নিয়মাবলী বর্ণিত হয়েছে। সেটি একবার চোখ মিলিয়ে নিতে পারেন।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x