লকডাউনে সন্তানের অস্থিরতায় কী করবেন

লকডাউনে সন্তানের অস্থিরতায় কী করবেন
ছবি: লাইফ ক্লিক  

এক মাস বা দুই মাস নয়, টানা ষোল মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অব্যাহত লকডাউনে ঘরে থেকে থেকে বাচ্চারা হয়ে উঠছে খিটখিটে স্বভাবের। বাইরে খেলতে যেতে পারছে না, কোথাও বেড়াতে যাবেন সেটাও হচ্ছে না, এমনকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে রেষ্টুরেন্টে যে খেতে যাবেন, সেখানেও কাজ করছে সংক্রমিত হওয়ার দ্বিধা। দেশে দিনকে দিন বেড়ে চলেছে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা।

ঘর থেকে বেরুতে বাচ্চারা উদগ্রীব হয়ে যাচ্ছে। করোনার ভয়াবহতা সর্ম্পকে তাদের ধারণা অস্পষ্ট। বাইরে গেলে যে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে সেটা তারা বুঝতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে দিনের পর দিন বাচ্চাদের সামলাবেন, সেটা ভেবে হিমশিম খাচ্ছেন অভিবাবকরা। নতুন নতুন খেলনাগুলো তাদের কাছে পুরনো হয়ে যাচ্ছে মাস না পেরুতেই। প্রতিটা ঘরে ঘরে এখন এ সমস্যা। তাই সন্তানের শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হলে চলবে না, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ধাঁধায় বাজিমাত: সন্তানকে একাগ্রতার খেলা শেখান। ধাঁধা জাতীয় কোনো খেলার সঙ্গে ওর পরিচয় করে দিন। কিংবা এমন কোনো খেলা শেখান, যাতে ওর একাগ্রতা বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। সেই সময়ের মধ্যে খেলাটি বা ছকটি ঠিকঠাক করতে পারলে, ছোটখাটো কোনো পছন্দের জিনিস গিফট দিতে পারেন। এতে বারবার খেলাটা খেলার তাগিদ থাকবে ওর মধ্যে।

আঁকাবুকি: ছবি আঁকা একটি সৃজনশীল বিষয়। তাই সব বাচ্চারাই যে খুব ভালো আঁকতে পারবে এমনটা নয়, তবে আঁকতে পছন্দ করে সবাই। বিশেষ করে জলরঙের প্রতি বাচ্চাদের অতিরিক্ত আকর্ষণ থাকে। ড্রয়িং বই থেকে জলরঙ দিয়ে কোনো অংশ রঙ করতে দিন। দেখবেন বাচ্চারা অনেকক্ষণ মন দিয়ে এটা করবে।

গল্পের বই পড়ে শোনান: পরিবারের বড়রা ছোটদের গল্পের বই পড়ে শোনালে বাচ্চারা খুব মজা পায়। এতে করে তারা মা-বাবার সান্নিধ্যটাও আরো বেশি পায়। সুন্দর গল্প বলে বাচ্চাকে সহজেই আকৃষ্ট করা যায়। তাই বাচ্চার মন ভোলাতে মজার মজার সব কাল্পনিক গল্প বলে বেশ খানিকটা সময় ওকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।

বাদ্যযন্ত্র শেখান: অনেকেই বাচ্চাকে নানা রকম বাদ্যযন্ত্র শেখাতে চান। আপনার বাচ্চা যদি সুরের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে ছোটদের উপযোগী গিটার বা কী-বোর্ড শেখাতে পারেন। নতুন বাদ্যযন্ত্রটি ভালো লেগে গেলে বাচ্চার বাইরে যাওয়ার ইচ্ছেও কমবে।

বিকালে খেলতে দিন: বিকালবেলা ছাদে, বাড়ির বাগানে বা বাড়ির সামনের খোলা স্থানে নিয়ে যান। ছোটখাটো কোনো খেলা যেগুলো ওখানে গিয়ে খেলা সম্ভব, সেগুলো বাচ্চার সঙ্গে খেলতে পারেন। এতে একটু দৌড়াতেও পারবে আবার খানিক শরীরচর্চাও হবে। একদমই বেরোতে না পারার আফসোসটাও খানিক ঘুচবে।

ইত্তেফাক/আরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x