মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় কিশোয়ার রাঁধলেন জাউ ভাত

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় কিশোয়ার রাঁধলেন জাউ ভাত
কিশোয়ার চৌধুরী; ছবি: সংগৃহীত

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরে সেরা ৪-এ উঠে এসে এবারে কিশোয়ার রেধেছেন জাউ ভাত। শুধু তাই নয়, সাথে ছিলো লাউ চিংড়ির স্যুপ, এবং সামুদ্রিক মাছের একটি তরকারি।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জাউ ভাত! এটা ভেবে একটু অস্বস্তি লাগাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু কিশোয়ার শুরু থেকেই বিদেশের মাটিতে তুলে ধরে আসছেন তার দেশের প্রচলিত সব খাবার। এখন পর্যন্ত হতাশ হতে হয়নি বিচারকদের কাছ থেকে। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই বিচারকদের কাছ থেকে কুড়িয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা, পেয়েছেন ভালোবাসা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বরাবরের মতো কিশোয়ার ছিলেন অনেক বেশি চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। এ আসরে চেয়েছিলেন তার মা যেনো তাকে নিয়ে গর্ব করেন। কারণ যা যা রান্না করেছেন সব শেখা তার মায়ের কাছে। তার মায়ের করা এই রান্না অনেক দুর্দান্ত।

খাবার পরিবেশন করার সাথে সাথে বিচারকরা তার বেশ প্রশংসা করেন। এমনকি কিশোয়ারের বাচ্চারা তার মতো মা পেয়ে এবং তার মা কিশোয়ারের মতো মেয়ে পেয়ে অনেক সৌভাগ্যশালী বলেও মন্তব্য করেন বিচারক জক জনফ্রিলো। উত্তরে কিশোয়ার অনেক আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন এবং বলেন, ‘তার মা অত্যন্ত সরল, তাই ক্যামেরার সামনে তাকে এনে বলানো সম্ভব নয় যে তিনি সত্যি গর্বিত তার মেয়েকে নিয়ে।’

কিশোয়ারের রান্না খেয়ে দেখার পর জক তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘খাবারগুলো সত্যি অনেক সুস্বাদু এবং মসলা থেকে শুরু করে সব কিছু সুষমভাবে দেওয়া।’

আরও বলেন, ‘মসলা মেশানোর কৌশল খুবই অসাধারন।’

একজন শেফ সারাজীবন এমন পন্থা শেখার জন্য চেষ্টা করতে থাকে, এবং কিশোয়ার তা করছে মাত্র ৭৫ মিনিটে। যা অবিশ্বাস্য তাদের কাছে। পাশাপাশি, কিশোয়ার যদি কোনোদিন রেস্টুরেন্ট খোলেন তাহলে সেখানে বিচারক অ্যান্ড্রু অ্যালেন বারাবার যাবেন বলেও সাহস জোগান তার মাঝে। মজার বিষয়টি হলো অন্য দুই বিচারকেরাও তার হ্যা তে হ্যা মিলিয়ে দিয়ে কিশোয়ারকে ধন্যবাদ দেন। গত আয়োজনে কিশোয়ারের মনোবল বাঁড়াতে অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে যুক্ত হয়েছিলেন তার মা ও ছেলেমেয়ে। একপর্যায়ে মা ও সন্তানদের দেখে কিশোয়ার তার চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কেঁদেই ফেলেন।

সেরা ৪-এ আসার পরে এখনও কিশোয়ারের জিতার জন্য অনেক পথ বাকি। দেশ-বিদেশের সকল বাঙালিরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরীর জন্য প্রদর্শন করছেন ব্যাপক ভালোবাসা। সবাই চান অস্ট্রেলিয়ার বুকে বাঙ্গালদেশের খাবারের, ঐতিহ্যের বিজয় হোক।

বিশ্বের রান্না বিষয়ক অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়োদশ আসরের মূল পর্ব শুরু হয় ২০ এপ্রিল। নর্দার্ন টেরিটরিতে চলছে এই প্রতিযোগিতা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে ২৪ জন অংশ নিয়েছিলো অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত পর্বে। সেখানেই ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী।

বিশ্বের রান্না বিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শোর মধ্যে মাস্টারসেফ অন্যতম। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ তাদের নিজস্ব মাস্টারশেফ আয়োজন করে থাকে। বিশ্বে মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ জনপ্রিয়তার দিক থেকে রয়েছে তালিকার শীর্ষে। এটি প্রতিযোগিতা মূলক রান্নার গেম শো।

ইত্তেফাক/এনএসএন

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x