ঈদে ঘরে আনন্দে থাকুক শিশুরা

ঈদে ঘরে আনন্দে থাকুক শিশুরা
ছবি: শেহতাজ শরীফ 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ ক্রান্তিকালে বিপর্যস্ত জনজীবনে আবারো এসেছে আরেকটি গৃহবন্দী ঈদ। আতঙ্ক ও অস্বস্তির এ সময়ে বয়সে বড়রা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও ঈদ আনন্দের সবটুকু উপভোগ করতে চায় শিশুরা। কারণ তারা জেনে এসেছে ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ-উল্লাস-ফুর্তি আর নতুন পোশাক-সাজে সজ্জিত হওয়া। অতিমারিতে শিশুদের ঈদ আনন্দে যেনো ভাটা না পরে সে দিকে নজর রাখুন।

যদি হয় আনন্দ আড্ডা

কোভিডের কারণে যেহেতু শিশুরা কোথাও বেড়াতে যেতে পারছে না তাই আশপাশের ফ্ল্যাটের শিশুদের এক সাথে আড্ডা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। কিংবা খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুদের বাচ্চাদের একসাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দিন। এক্ষেত্রে বাড়িতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন পরিবারের বাসিন্দারা একত্র হয়ে ঈদের দিন বিকালে বা সন্ধ্যায় আয়োাজন করতে পারেন মজার মজার সব খেলা আর শিশুরেও জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ছোটবড় সবার জন্য থাকুক না কিছু পুরষ্কার, দেখবেন কি মজাটাই না হয়।

স্বাস্থ্যবিধিতে কড়াকড়ি

চিত্রপটে যেহেতু করোনা তাই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। যে কেউ যখন ঘরে প্রবেশ করবে তার আগে অবশ্যই তাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করে নিতে হবে। জুতার তলায়ও স্প্রে করুন এবং বাইরের জুতা নিয়ে কখনোই ঘরে প্রবেশ করতে দেবেন না। অতি আবেগে কোলাকুলি-হ্যান্ডশেক না করলেই ভালো। দূরত্ব রেখে কথা বলনু এবং সম্ভব হলে মাস্ক পড়ে থাকুন। আর আড্ডায় যতোই মশগুল হোন না কেন, কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নেবেন।

পোশাকে-সাজে নয় কৃপণতা

ঈদ উৎসবের ঘরে একটা খুশির আমেজ নিয়ে আসুন। যাতে বাচ্চারা আনন্দ মনে থাকে। বিছানায় সুন্দর চাদর বিছান। সন্ধ্যায় রাখতে পারেন ল্যাম্পের হালকা আলো, দরজায় চাইমের টুংটাং মৃদু শব্দ। ঈদের দিন শুধু বাচ্চাকে নতুন পোশাকে সাজাবেন তা কিন্তু নয়, নিজেও সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পরিপাটি পোশাক পরুন। নতুন যদি না হয় তাতে কি, নিজের পছন্দের পোশাকটি পরুন। বাচ্চাকে বুঝতেই দেবেন না যে আপনার পোশাকটি পুরাতন। এভাবে সবাইকে সাজে-পোশাকে দেখলে বাচ্চার মনের ভেতরে আনন্দ থাকবে।

থাকুক পছন্দের মেন্যু

ঈদের আগেই ঠিক করে রাখুন কী কী রাঁধবেন সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে। যতটুকু সাধ্যে থাকে সে অনুযায়ী আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র প্রস্তুত করে রাখুন। বাচ্চার পছন্দের মেন্যু অন্তত তৈরি করে দেবেন। এতে সে খুশি হবে। আর ঘরের সব কাজে সবাই অংশগ্রহণ করুন। এতে বাচ্চাদের নতুন অভিজ্ঞতা হবে। বাড়বে পারিবারিক বন্ধন ও পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার মানসিকতা।

খেলায় খেলায় আনন্দ

আড্ডাটা যেনো স্বতঃস্ফূর্ত হয়। শিশুকিশোরেরা ছবি আঁকতে পারে। আবৃত্তি, অভিনয়ও হতে পারে। মায়েরা পিলো পাসিংয়ের মতো মজার খেলাও খেলতে পারেন। এতে বাচ্চারা খুব মজা পাবে। সাউন্ড সিস্টেম থাকলে ছোটদের পাশপাশি বড়দের ফ্যাশন শো করা যেতে পারে। শেষ অক্ষরে গানের খেলা হতে পারে। বাবারা খেলতে পারেন বিভিন্ন বিষয়ে কুইজ। আর এভাবেই ঘরবন্দি ঈদ হয়ে উঠবে আনন্দময়।

ইত্তেফাক/আরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x