অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার যত ক্ষতি   

অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার যত ক্ষতি   
ছবি: শেহতাজ শরীফ ও লাইফ ক্লিক  

কোরবানির ঈদ আসলে সবাই কমবেশি স্বাস্থ্য সচেতনতা ভুলে যায়। মুখরোচক, মজাদার ও লোভনীয় মাংসের খাবারগুলো খেতে কার না ভালো লাগে? তাইতো কোরবানির ঈদ মানেই ঘরে ঘরে মাংসের নানান রেসিপি। কিন্তু সুস্থ থাকতে পরিমিত মাংস খেতে হবে। অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খেলে ক্ষতিকর রোগবালাই এসে ভর করে শরীরের ওপর। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে ক্ষতিগুলো কেমন।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোলন ক্যান্সার

অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেই পরবর্তীতে আরো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। মোট কথা অতিরিক্ত মাংস খেলে সেটা শরীরে উপকার না করে বরং নানান রোগের সূত্রপাত ঘটায়। এই যেমন ধরুন, সপ্তাহে যারা তিন বেলাতেই গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস খেতে খেতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, তাদের কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলতনায় শতকরা ১২ ভাগ বেশি।

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ

গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে এবং বাড়াতে সোডিয়ামের জুড়ি নেই! তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা পরবর্তীতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে একটি গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত লাল মাংসে ভুরিভোজ করেন, তাদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপানসহ বিভিন্ন বদভ্যাস গড়ে ওঠে। আর এগুলো ধীরে ধীরে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যায়।

কিডনি ও ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি

বেশি বেশি মাংস খেলে এর মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। লাল মাংস দিনের পর দিন খেলে ফুসফুস ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার ও অগ্নাশয় ক্যান্সার হতে পারে। আর প্রক্রিয়াজাত লাল মাংসে কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি আরো বেশি।

ডায়াবেটিস হতে পারে

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১ মিলিয়ন মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালায়। এ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ১০০ গ্রাম বা এর চেয়ে বেশি মাংস খান, তাদের হার্টের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকে অন্যদের তুলনায় ৪২% এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ১৯%। আর ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বেশি মাংস খেলে হৃদরোগ ঝুঁকি থাকে ৩ গুণ বেশি।

ওজন বাড়তে পারে

পশুর ওজন বৃদ্ধি ও রোগমুক্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোনাল ওষুধ খাওয়ানো হয়। যা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে অল্প বয়সে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস বা স্পার্মের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এগুলোর পাশপাশি ব্রেইনের কার্য ক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি হ্রাস সহ শরীরের ওজন বাড়তে পারে। অনেকেই মাংস জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে হজম প্রক্রিয়া বাড়ানোর জন্য কোমলপানীয় পান করেন, যা উচিত নয়। এতে ওজন আরো বাড়তে পারে।

তাহলে কতটুকু মাংস খাওয়া উচিত

মাংসে পুষ্টিগুণ অবশ্যই আছে। যদি পরিমিত খাওয়া যায়। বেশি বেশি কোনো কিছুই ভালো নয় স্বাস্থ্যের জন্য। মাংসে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাটিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, আয়রন, জিংক যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারি। একদিনে ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম লাল মাংস খাওয়াটা হলো মোটামুটি নিরাপদ। এটা দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজ পাউরুটির টুকরার মতো হবে। খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সালাদ ও সবজি রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বেশি বেশি পানিও পান করতে হবে। কারণ পানি পরিপাকে সাহায্য করে।

ইত্তেফাক/আরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x