বৃষ্টির পানিতে পা পিছলে আলুর দম, আঘাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে 

বৃষ্টির পানিতে পা পিছলে আলুর দম, আঘাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে 
ছবি: ইন্টারনেট

বর্ষাকালে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে ঘরের কোণে, রাস্তায়, ফুটপাতে পানি জমে যায়। সামান্য অসাবধান হলেই পা পিছলে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একটু-আধটু কেটে গেলে হয়তো ওষুধ লাগালে সেরে যায় কিন্তু চোট বেশি হলে ভেঙে যাওয়া, মচকে যাওয়া বা কালশিটে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

পিছলে পড়ার কারণ

বৃষ্টির দিনগুলোতে তাই প্রয়োজন সর্তকতা, যাতে অপ্রত্যাশিত আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। নিজের পায়ের মাপের চেয়ে ছোট-বড় জুতা পরা থেকে বিরত থাকুন। পানি জমে আছে এমন মেঝে এড়িয়ে চলুন। এছাড়া পা পিছলে পড়ার আরো কারণগুলো হলো-হাঁটা ও ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে, ভাঙা কিংবা অমসৃণ সিঁড়ি ব্যবহার করলে, ঘর অগোছালো থাকলে, আলো কম থাকলে, আর চোখের সমস্যা থাকলে।

আঘাতগুলো কেমন হতে পারে

অধিকাংশ ক্ষেত্রে বয়স্ক লোকেদের হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সাধারণত কব্জি, হাত, কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার সমস্যাই বেশি দেখা দেয়। কব্জি ও গোড়ালি মচকে পেশিতে ব্যথা হওয়া, কাঁধের হাড় সরে যাওয়া, হাঁটু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি মেরুদণ্ড ও স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া ট্রম্যাটিক ব্রেন ইনজুরি, পেশি, লিগামেন্ট ইত্যাদিতে মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে। ভয়ংকর কথা হলো এতে কারো কারো চলাফেরার ক্ষমতাও চলে যেতে পারে। তাই এই রকম সমস্যায় টোটকা চিকিৎসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

চোট পাওয়া এড়াবেন যেভাবে

১.সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার সময় সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলো আছে কিনা দেখে নিন। সিঁড়ির হাতল ধরে ওঠা-নামা করুন। প্রয়োজনে সিঁড়ির পাশে দেয়াল ব্যববহার করুন। আর হাঁটার সময় সতর্ক থাকুন। মোবাইল দেখতে দেখতে হাঁটবেন না। সেটা সিঁড়ি হোক কিংবা রাস্তায়। পথচারীরা যে পথ ব্যবহার করেন, সেই পথেই হাঁটুন। বাথরুমেও সর্তকতার সাথে পা ফেলুন।

২.ভেজা, অমসৃণ মেঝেতে আরামদায়ক, স্লিপ করা প্রতিহত করতে পারে এমন জুতা পরুন। উঁচু হিল বা চামড়ার জুতা একেবারেই পরবেন না। বাসায় ঢোকার আগে পাপোশে ভালো করে পা মুছে তারপর ঢুকুন। ভেজে জামা ও ছাতা চলার পথে রাখা ঠিক নয়। রাস্তার ভাঙা ও ভেজা কাদার জায়গাগুলো এড়িয়ে চলুন। আর আবহাওয়া ভালো না থাকলে বা বৃষ্টির সময়টা খুব প্রয়োজন না পরলে বাইরে বের হবেন না।

৩.ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে স্ট্রেংথ ট্রেনিং নিতে পারেন। চোখের সমস্যা থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে চোখ দেখিয়ে নিন। এবং ভিটামিন ডি’র সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি’র ওষুধ খেতে পারেন।

ইত্তেফাক/আরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x