ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


১৪ ফেব্রুয়ারি : চলুন ভালবাসি

১৪  ফেব্রুয়ারি : চলুন ভালবাসি
মৌলি আজাদ

অভিধান অনুযায়ী ‘ভালবাসা’ অর্থ হলো প্রণয়, প্রেম, অনুরাগ, প্রীতি, সদ্ভাব, বন্ধুত্ব, স্নেহ, শ্রদ্ধা, ভক্তি, আসক্তি, আকর্ষণ, টান বা পছন্দ। চার অক্ষরের এই শব্দটার কতরকমরই না অর্থ! সামান্য একটু ভালবাসা প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে পাবার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। যাকে ভালো লেগে যায় তাকে সবাই নিজের করে পেতে চায়।

নিজের করে পাওয়ার জন্য বা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য করা হয় অনবরত এসএমএস (আজকাল চিঠি লেখা বোধহয় হয় না বললেই চলে), নানা রকম গিফট পাঠানো (আজকাল কোন গিফট নিজের হাতে তৈরি করতে হয় না, সব পাওয়া যায় বড় বড় গিফটের দোকানে) ইত্যাদি। এক সময় তার মনটাও হয়তো পাওয়া হয়ে যায়। তখন তো বলা যায় দুজনের হয় উথালপাথাল অবস্থা। না দেখলে, না কথা বললে মনে হয় এ জীবন রেখে লাভ কি? এই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের যুগে দেখতে পাওয়া তো কোনো বিষয়ই নয় । মুর্হূতেই ভিডিওচ্যাটে প্রিয় মানুষটাকে দেখার সাথে মন খুলে কথা বলে কিছুটা হালকা হওয়া যায়। ধীরে ধীরে সর্ম্পক যখন গাঢ় হয় ...তখন বেশিরভাগেরই ইচ্ছে হয় এক ছাদের নিচেও থাকতে। তখন চলে আসে নিজেদের মধ্যে কিছুটা অধিকারবোধ। একজন আরেকজনের উপর অধিকার থাকবে তাইতো স্বাভাবিক। সর্ম্পকের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত সবই ঠিক থাকে। কিন্তু অনেক সময় অকারণে অধিকার বোধ ফলাতে গিয়ে আরেকজনের উপর জবরদস্তিই করে ফেলি। তখনই সর্ম্পকে ধরে ফাঁটল, সর্ম্পকে তৈরি হয় জটিলতা, সৃষ্টি হয় দূরত্ব। ভালবাসায় আগে যে লাল সবুজ হলুদ রং খেলা করতো তা ফিকে হতে হতে নীল কষ্টে পরিণত হয়। যে মানুষটিকে না পেলে এক সময় বেঁচে থেকেই বা কি লাভ ভাবতাম... তবে সর্ম্পকের বাঁধন একটু আলগা হলেই তবে কেন আমরা অনেকেই তার জীবনকে এলোমেলো করার জন্য উঠেপড়ে লাগি? ভালবাসা বুঝি এতোই ঠুনকো? যাকে ভালবাসি তার সাথে সর্ম্পকের দড়িটা কি তবে মজবুত ছিল না! প্রতিহিংসা কি ভালবাসার সাথে যায়?

ভালবাসা সময়-অবস্থা-বয়স পারিপার্শ্বিকতা অনেক কিছু মানে না। আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনও হয়। অনেক সময় বিবাহিতরাও পড়ে যায় অন্যের প্রেমে। তবে কি বিবাহ মানেই পুরনো উছলে পড়া প্রেমের হাওয়া হয়ে যাওয়া? নিশ্চয়ই নয়।

পরকীয়ায় কি নৈতিকতা থাকে? কত প্রশ্ন আসে মনে। সেই সর্ম্পকের ভিত্তিও কিন্তু ভালোবাসাই। যাই করুন- দুজনদুজনকে ভালবেসে যান নিরবধি। ভালবাসায় স্পেস রাখুন। রাখুন স্বছতা, শ্রদ্ধা বিশ্বাস। ভালবাসায় এক ঘেয়েমি নাই বা আসতে দিন।

১৪ই ফেব্রয়ারি একটি দিন, যাকে সবাই ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলে দিনটি স্পেশাল। অন্যসব দিনের চেয়ে জন্মদিনটি আমাদের কাছে স্পেশাল তাই না! সবার শুভেচ্ছায় সিক্ত হতে সেদিন আমরা চাই। ঠিক তেমনি ১৪ ফেব্রয়ারি। ভালবাসার মানুষটির সামনে আটপৌঁড়ে না দাঁড়িয়ে চলুন না সাজগোজ করে তাকে চমকে দেই। ঘুরে বেড়াই দুজন। ফাইভস্টার হোটেল থেকে শুরু করে রাস্তার টং দোকান যেকোন জায়গাতেই তার সাথে খাওয়া যেতে পারে। সব সময় তো দুজন দুজনকে সাধ্যমত নানান গিফট দেই। কিন্তু ভাষার এ মাসে ভালবাসার মানুষটির হাতে বরং তুলে দেই বাংলাভাষায় লেখা মিষ্টি প্রেমের একটি বই (কবিতা/গল্প যেকোনটাই হতে পারে)। প্রয়োজনীয় নয় এ রকম দু একটা কথা বললেই বা কি আসে যায়!

চলুন-দুজন দুজনকে এমন ভাবে ভালোবাসি যাতে দুজনের কাছে দুজন কখনই পুরোনো না হয়ে যাই। প্রথম প্রেমে পড়ার সময় তাকে দেখতে না পেলে বুকের ভেতরে যেমন হাহাকার হতো -সেই হাহাকারটিই যেন আজীবন বজায় থাকে। চোখে চোখ রাখুন। দূরত্ব কখনও যেন ভালবাসায় বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়। যেখানেই থাকি মনে হয় -এইতো দুজনে পাশেই আছি। এমনভাবে দুজনদুজনকে ভালবাসি যাতে ভালবাসা-দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে কেবল। দুজনের সোহাগ যেন বাঁধভাঙ্গা নদীর মতো বয়ে যায় কেবল । জানেন তো-ভালবাসা বাড়লে শুধু লাভই আছে ক্ষতি নেই একফোঁটাও। লেখক : ডেপুটি ডিরেক্টর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন