ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৪ °সে


অটিজমের কারণে দেখা দিতে পারে ক্ষুধামন্দা

অটিজমের কারণে দেখা দিতে পারে ক্ষুধামন্দা
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, অটিজমের কারণে খাবার গ্রহণে অনীহা বা ক্ষুদামন্দার সৃষ্টি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকার জানিয়েছে, এনারক্সিয়া বা ক্ষুদামন্দা রোগ নির্ণয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয় তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচ জনের একজনের অটিস্টিক সমস্যা রয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান নাইস বলছে, ক্ষুদামন্দা ও অটিজমের সম্পর্ক জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ক্ষুধামন্দায় আক্রান্ত এক নারী জানান, অটিজমের কারণেই তিনি খাবার গ্রহণের ব্যাপারে ‘অবসেসড’ বা ভীষণ রকম খুঁতখুঁতে মেজাজের হয়ে পড়েন। যদিও তিনি ওজন কমানোর ব্যাপারে আগে থেকে কোনো রকম আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু তারপরও তার খাবারে তিনি কতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করছেন তার হিসেব রাখতেন। এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষুদামন্দার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক কতটা গভীর তা জানতে বিস্তারিত গবেষণার দরকার রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

২৪ বছর বয়সী সোফী ম্যাকক্লেন্স জানান, তার ক্ষুধামন্দার পেছনেও অটিজমই দায়ী ছিল। তিনি খাদ্য গ্রহণ করতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রেই হতো না। কারণ মনের মধ্যে সারাক্ষণ ক্যালোরির হিসেব ঘুরঘুর করতো। সেই ১৯ বছর বয়স থেকে শুরু হয় তার এই ক্ষুদামন্দার সমস্যা। তবে তার যে অটিজম সমস্যা রয়েছে তা তখনো তিনি জানতে পারেননি। এক পর্যায়ে নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন। তার শরীর এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে হাসপাতালে চলাফেরার জন্য তাকে হুইল চেয়ারের সাহায্য নিতে হয়েছিল। তবে তার অটিজম তখনো ধরা পড়েনি। ধরা পড়েছে মাত্র গত বছর। সোফি ম্যাকক্লেন্স মনে করেন, যদি তার অটিজমের সমস্যা আরো আগে ধরা পড়তো তাহলে তিনি আরো আগেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারতেন।

গবেষক উইল মেন্ডি বলেন, কারো অটিজম আছে কিনা তা যতক্ষণ না জানা যায়, তার সঠিক চিকিত্সাই শুরু করা সম্ভব না। অটিস্টিকার বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালক ড. জেমস কুসাক বলেন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় প্রতিষ্ঠান নাইস-এর পক্ষ থেকে একটি দিক-নির্দেশনা থাকা দরকার।

২০১৫ থেকে ২০১৭ এর মধ্যে সম্পন্ন হওয়া তিনটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে ড. কুসাক বলেন, এনারক্সিয়া বা ক্ষুধামন্দায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে শতকরা অন্তত ১৫ ভাগ নারীই অটিজমে আক্রান্ত। যুক্তরাজ্যের ক্লিনিক দ্য সাউথ লন্ডন এন্ড মডস্লেই এনএইচ ট্রাস্টস ইটিং ডিসঅর্ডার সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের কাছে আসা রোগীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ শতাংশেরই অটিজম রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একজন গবেষক উইল মেন্ডি বলছিলেন, কারো অটিজম আছে কিনা তা যতক্ষণ না জানা যায়, তার সঠিক চিকিত্সাই শুরু করা যাবে না। দ্য সাউথ লন্ডন এন্ড মডস্লেই এনএইচ ট্রাস্টস ইটিং ডিসঅর্ডার সার্ভিসের ক্যারোলাইন নর্টন বলেন, তাদের কাছে যে রোগীরা আসেন তার মধ্যে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সময় নিয়ে একা কথা বলতে হয়। আর এর ভেতর দিয়েই পুষ্টিবিদদের সহায়তায় রোগীদের জন্য খাদ্য তালিকা নির্ধারণ করলে ভালো ফল মিলবে। -বিবিসি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন