ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে

অতিরিক্ত ওজন এবং ক্যানসার

অতিরিক্ত ওজন এবং ক্যানসার
ছবি-সংগৃহীত

আপনি সব সময় শুনে এসেছেন যে অতিরিক্ত ওজন হৃদেরাগ, ডায়াবেটিস এবং আরো অনেক অসুখ ঘটাতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষকেরা সন্দেহ করে আসছেন যে শারীরিক ওজনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে তারা প্রমাণ পেয়েছেন কীভাবে শারীরিক ওজন ক্যানসার ঘটায়। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি শুধু সেখানে বসে থাকে না, সেটা তন্ত্রে সক্রিয় পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার সৃষ্টি হওয়াকে সহজ করে দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বি কোষগুলো বুকে হরমোনসহ শারীরিক বৃদ্ধি ঘটানো বস্তুগুলোর নিঃসরণ ঘটাতে দ্রুত কাজ করে। এসব বস্তু শরীরের বিভিন্ন কোষে সংকেত পাঠিয়ে দ্রুত কোষের বিভাজন ঘটায়। এভাবে যত্রতত্র কোষ বিভাজন বেড়ে যায় এবং তা ক্যানসারের সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত ওজনের ফলে যে ক্যানসার ঘটে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেখানে সেক্স হরমোন ইস্ট্রোজেন এবং টেসটোসটেরনের একটা সম্পর্ক রয়েছে। এসব ক্যানসার হলো স্তন, অ্যান্ডোমেট্রিয়াম এবং প্রোস্টেট গ্রন্থির ক্যানসার। উদাহরণস্বরূপ, মেনোপজ পরবর্তী মহিলার স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে মহিলার ওজন অনেক বেশি। গবেষকেরা বিশ্বাস করেন যে, মোটা মহিলারা মেনোপজের পরে অবিরাম কিছু ইস্ট্রোজেন তৈরি করে যান, যা তাদের ডিম্বাশয়ে উত্পন্ন হয় না, উত্পন্ন হয় তাদের চর্বিকলা থেকে। আর একজন মহিলার সারা জীবনে বেশি ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হওয়া মানে তার স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। সেক্স হরমোন একমাত্র দোষী হরমোন নয়।

আরও পড়ুন: সাত দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা

শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ইনসুলিনের মাধ্যমেও ক্যানসার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ইনসুলিন হরমোন খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করে। অতিরিক্ত ওজনের লোকদের কোষগুলো কখনো কখনো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়। এর মানে হলো রক্ত থেকে চিনি অপসারণ করতে শরীরকে বেশি ইনসুলিন উত্পন্ন করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ইনসুলিন কোষের বিভক্তি ঘটায় এবং এভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ইনসুলিনের এই ব্যাপারটি যেসব মোটা লোকের ঘটে, তাদের সাধারণত অন্ত্রের ক্যানসার হয়। কারণ অন্ত্রের কোষগুলো শরীরের অন্যান্য কোষের চেয়ে দ্রুত বিভক্ত হয়। চর্বি কোষ যত বড় হবে তত বেশি ইনসুলিন উত্পন্ন হবে, আর ক্যানসারের ঝুঁকির তত বেড়ে যাবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন