বছরের আলোচিত নারী

বছরের আলোচিত নারী
বছরের আলোচিত নারী। ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরে করোনার এই সময়েও পিছিয়ে নেই নারী। এ বছর নোবেল জিতেছেন চার নারী— লুইস গ্লিক, ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের, জেনিফার এ ডাউডনা ও আন্দ্রিয়া ঘেজ। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেয়েছেন সিলেটের মেয়ে আইরিন খান। কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় বিশ্বের সেরা দশে বাংলাদেশি তরুণী তনিমা তাসনিম অনন্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশি অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা।

তনিমা তাসনিম অনন্যা

সায়েন্স নিউজ নামের একটি গণমাধ্যমের বিচারে বাছাই করা ১০ বিজ্ঞানীর একজন হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী তনিমা তাসনিম অনন্যা।

কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এমন বিজ্ঞানীর তালিকা প্রকাশ করল সায়েন্স নিউজ। ‘এসএন টেন :সায়েন্টিস্ট টু ওয়াচ’ নামের এই তালিকায় শুরুতেই স্থান পেয়েছেন তনিমা তাসনিম। কৃষ্ণগহ্বরের নিখুঁত ছবি তৈরি করেছেন তিনি। গবেষণার এ কাজকেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছে সায়েন্স নিউজ। একে ‘অসাধারণ গবেষণা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সায়েন্স নিউজের ওয়েবসাইটে লেখা আছে, তনিমা তাসনিম একজন মহাকাশবিজ্ঞানী। বর্তমানে ডার্টমাউথ কলেজের সঙ্গে তিনি যুক্ত আছেন। একসময় ঢাকার বাসিন্দা তনিমা কৃষ্ণগহ্বরের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এঁকেছেন। তাতে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে কৃষ্ণগহ্বরগুলো বেড়ে ওঠে এবং পরিবেশে কী প্রভাব রাখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে তিনি এ কাজ করেছেন। তনিমা তাসনিম এর আগে নাসা ও সার্নে ইন্টার্নশিপ করেছেন। এ ছাড়া কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তনিমা।

লুইস গ্লিক

গত ২৭ বছরে প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে ২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন লুইস গ্লিক। নোবেল কমিটির মতে, তার অসামান্য কাব্যভাষা ও দার্শনিক সৌন্দর্যবোধ ব্যক্তির অস্তিত্বকে সর্বজনীন করে তোলে। তার বেশির ভাগ কবিতায় স্থান পেয়েছে হূদয়ের স্পর্শকাতরতা, একাকিত্ব, পারিবারিক বন্ধন, বিবাহবিচ্ছেদ, মৃত্যু, কাম, ক্রোধ, বেদনা, হতাশা ইত্যাদি। মার্কিন কবি রোজানা ওয়ারেন বলেছেন, লুইস গ্লিকের প্রথম দিকের কাব্যে স্থান পেয়েছে ব্যর্থ প্রেম, অপূর্ণ ভালোবাসা, ভেঙে যাওয়া পরিবার, শোক, সন্তাপ, বিরহ ইত্যাদি। এখন তার লেখায় আত্মিক একাকিত্বভাব স্পষ্ট। এই একাকিত্বের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন চিরায়ত মিথ ও উত্তরাধুনিক বিচ্ছিন্নতা।

আন্দ্রিয়া ঘেজ

২০২০ সালের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে এবার নারীদের নাম যুক্ত হয়েছে এখন পর্যন্ত তিন ক্যাটাগরিতে। রসায়ন ও সাহিত্যের পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞানেও এবার স্থান করে নিয়েছেন আন্দ্রিয়া ঘেজ। এই ক্যাটাগরিতে আরো দুজন পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন রানহার্ড গেঞ্জেল ও রজার পেনরোজ। রজার পুরস্কার পাচ্ছেন আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব যে ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বকে সমর্থন করে। ঘেজ ও গেঞ্জেল পাচ্ছেন ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যে একটা দৃঢ় বস্তু আছে সেটার জন্য। এই তিন জনই নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ব্ল্যাকহোল নিয়ে কাজ করার জন্য।

ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের ও জেনিফার এ ডাউডনা

২০২০ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের ও জেনিফার এ ডাউডনা। জিনোমের একটি পদ্ধতির উন্নতি নিয়ে কাজ করায় এ সম্মাননা পেলেন তারা। জিন টেকনোলজির অন্যতম কঠিন একটি বিষয় উন্মোচন করেছেন ইমানুয়েল ও জেনিফার। এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষকরা একদম নির্ভুলভাবে প্রাণী, গাছ ও অণুজীবের ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারবেন। শারপেনটিয়ার একজন ফ্রেঞ্চ মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ডাউডনা একজন আমেরিকান বায়োকেমিস্ট। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে রসায়নে তারাই প্রথম একত্রে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম নারী হিসেবে পুরস্কার জিতলেন।

আইরিন খান

জাতিসংঘে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেলেন আইরিন জুবাইদা খান। আগস্ট থেকে তিন বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের মেয়ে আইরিন খান। তিনি ২০০২ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলো-শিপ, পিলকিংটন ওম্যান অব দি ইয়ার পুরস্কার ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০৭ সালে গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় তাকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চ্যান্সেলর নির্বাচনের জন্য যে দুজন ব্যক্তি মনোনীত হন, তার মধ্যে তিনি একজন। আইরিন খান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ছিলেন বেশ সরব।

সেঁজুতি সাহা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা। ডা. সেঁজুতি সাহার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া বাকি দুজন হলেন-যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক শেইলা লেথারম্যান ও নাইজেরিয়ার চিকিত্সক ডা. লোলা ডেয়ার। উচ্চ শিশুমৃত্যুতে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে যে ব্যবধান ছিল, তা হ্রাসে তারা কাজ করে চলেছেন। এ জন্য তারা সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত ও রোগ নির্ণয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করছেন। ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের গবেষণার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x