ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

ভোটের তারিখ নিয়ে জটিলতায় ইসি

ভোটের তারিখ নিয়ে জটিলতায় ইসি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের জন্য ঘোষিত ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ নিয়ে জটিলতায় পড়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের তারিখ পেছানোর দাবিতে সোচ্চার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। তারিখ পেছানো নিয়ে স্মারকলিপি, বৈঠক এবং বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। নির্বাচন পেছানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছে উচ্চ আদালত। একজন রিটার্নিং অফিসার ভোট পেছানোর সুপারিশ করলেও আগের দিন সরস্বতী পূজা এবং ভোটের পরের দিন শুক্রবার, একদিন পর এসএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে তারিখ পেছাতেও পারছে না কমিশন। এই জটিল পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করছে ইসি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল সোমবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও চার কমিশনারের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেনি। বৈঠক শেষে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ইসির ভূমিকায় আমরা হতাশ। ৩০ জানুয়ারি ভোট হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করবে এবং সনাতনী জনমনে ক্ষোভ-হতাশার সৃষ্টি করবে। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তার দায় আমরা নেব না।

ঐক পরিষদের এসব দাবির বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, আমাদেরকে সরকারি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভোটের তারিখ ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া সরস্বতী পূজার দিন ২৯ জানুয়ারি ঐচ্ছিক ছুটি। আর ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সরকারি ছুটি। আবার ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা। তাই সকল দিক বিবেচনায় নিয়েই ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ভোটের তারিখ পেছানোর দাবিতে পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু পরিষদ, ঢাবির জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, ডাকসু, জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা ইসিতে এসে স্মারকলিপি ও বৈঠক করেন। তারা দুই সিটির রিটার্নিং অফিসারকেও চিঠি দেন। বিক্ষোভ-মানববন্ধন অব্যাহত রাখে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে কোনো সুরাহা না পেয়ে ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা রয়েছে উল্লেখ করে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ ভোট পেছানোর জন্য রিট করেন।

রিটের আদেশ আজ :দুই সিটি নির্বাচন পেছানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

দায় নেবে না হিন্দু সম্প্রদায় :নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তার দায় হিন্দু সম্প্রদায় নেবে না বলে জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। রানা দাশগুপ্ত বলেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি বুধবার দুপুর বেলা শ্রীপঞ্চমী তিথি শুরু হবে এবং ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সকাল বেলা সরস্বতী পূজা হবে। পূজার্থীদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। তারা ভোট দেবে নাকি পূজা করবে। আর পূজার দিন ভোট হলে তো পূজা করা যাবে না। কেননা, বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

দাবির কথা কমিশনকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলেছে। তারা তাদের অবস্থানেই রয়েছে। তাই হতাশ মনে ফিরে যাচ্ছি। এছাড়া কোর্টে রিট আবেদনের শুনানি থেকে মঙ্গলবার নির্দেশনা আসবে। তারপরে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তিনি বলেন, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি ছাড়া যে কোনো দিন ভোট হলে আমাদের আপত্তি নেই। যদি তারিখ পরিবর্তন করা না হয়, আর যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তবে আড়াই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমরা দায় নেব না। এ সময়ে ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথসহ হিন্দু পরিষদ, খ্রিষ্টান পরিষদ ও বৌদ্ধ পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবিতে বিক্ষোভ :বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘৩০ জানুয়ারি ছুটির দিন। এই দিনে আমরা পূজা করব নাকি ভোট দেব? পূজার জন্য অনেক আয়োজন থাকে। সেগুলো আগের দিন থেকে করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন হলে তা সম্ভব না। আমরা চাই এই দিন পরিবর্তন হোক।’ মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন