ঢাকা রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬
১৯ °সে

কয়লা পরিবহনে আইন মানছে না পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

কয়লা পরিবহনে আইন মানছে না পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র
প্রতীকী ছবি

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি মেগা প্রকল্প পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ দুই কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি-পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন-নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের আরেকটি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের সার্বিক দায়িত্ব বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। তবে ইতিমধ্যে বিদেশি শিপিং কোম্পানিকে কয়লা পরিবহনের কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) সম্পন্ন করে ফেলেছে পায়রা ও রামপালে বিদ্যুৎ উত্পাদনকারী দুই সংস্থা বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) এবং বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)। এখন ওই কার্যাদেশ বাতিল করে শিপিং করপোরেশনকে কার্যাদেশ দিতে হলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হবে বলে দাবি করছে দুই কোম্পানি।

গত জানুয়ারিতে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাসূত্র জানায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন- ২০১৭ এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন- ২০১৯ অনুযায়ী সরকারি তহবিলের অর্থে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং সংস্থা হিসেবে বিএসসি’র মাধ্যমে পরিবহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ আইন অনুযায়ী পায়রা ও রামপালসহ অন্য যারা কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করবে তাদের পণ্য শিপিং করপোরেশনের জাহাজ বা করপোরেশনের ভাড়াকৃত জাহাজে পরিবহন করতে হবে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ, জ্তালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, রামপালে বিদ্যুেকন্দ্রের কয়লা পরিবহনের দায়িত্ব বিএসসিকে দেওয়ার জন্য ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী একটি ডিও পত্র বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোম্পানি দুইটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদেশ থেকে বাংলাদেশে কয়লা পরিবহনের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাধ্যমে জাহাজ চার্টারিং বা ভাড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি বিদ্যমান আইন, বিধি ও সরকারি নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি তহবিলের অর্থে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্য বিএসসি’র মাধ্যমে পরিবহন করা না হলে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের অনুকূলে বিএসসি কর্তৃক অনাপত্তি পত্র প্রদান করারও কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ফলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে বিএসসি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের পণ্য পরিবহনেও আইনগত জটিলতা তৈরি হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি সকল দপ্তর-সংস্থাকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য বিএসসি’র নিজস্ব জাহাজ অথবা বিএসসির ভাড়া করা জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন করার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১৭ নভেম্বর একটি লিখিত নির্দেশনা জারি করেছিলেন। পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে উপায়ে কয়লা আমদানি করতে যাচ্ছে তা ওই নির্দেশনারও লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানির (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলেন, এমন আইন ও বিধি সম্পর্কে আমরা আগে জানতাম না। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও আমাদেরকে এ বিষয়ে আগে কিছু জানানো হয়নি। পায়রায় আমদানিতব্য কয়লা পরিবহনে আন্তর্জানিত দরপত্র আহবান করে কার্যাদেশ সম্পন্ন করা হয়েছে ২০১৮ সালে। এখন ওই কার্যাদেশ বাতিল করতে হলে বিপুল সংখ্যক আর্থিক ক্ষতি গুণতে হবে। সেটি বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ বাড়াবে। তবে সরকার যে নির্দেশনা দেবে আমরা তা অনুসরণ করব।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাগেরহাটের রামপালে এবং পটুয়াখালীর পায়রার দুইটি কেন্দ্রে বছরে ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদিত হবে। এতে বছরে প্রায় সোয়া এক কোটি টন কয়লা প্রয়োজন হবে। কয়লা পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হয়। সেই দক্ষতা ও প্রস্তুতি শিপিং করপোরেশনের নেই। আর তারা যদি বিদেশ থেকে ভাড়া করেই জাহাজ দেয় সেটিও অপেক্ষাকৃত বেশি খরচের পথ তৈরি করবে। এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন