ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
২৭ °সে

শিক্ষা আইনের খসড়া

টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার

টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার
ছবি সংগৃহীত

বর্তমানে ইচ্ছেমতো টিউশনসহ অন্যান্য ফি নির্ধারণ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি ফি পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন অভিভাবকরা। সরকার শিক্ষার উন্নয়নে নানা সুযোগ-সুবিধা দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফিয়ের কারণে শিক্ষাগ্রহণ এখন ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত বেতনসহ অন্যান্য ফি আদায় বন্ধে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তাই এবার শিক্ষা আইনের খসড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টেনে ধরার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় এ সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে, বাংলা ও ইংরেজি ভার্শনের সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি সরকার অনুমোদিত হতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো রকম বেতন বা অন্যান্য ফি গ্রহণ করা যাবে না। এই বিধানের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ক্ষেত্রেও ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলা আছে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের টিউশন ও অন্যান্য ফি আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হবে।

আইনের উচ্চশিক্ষা স্তরের ৩৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা স্তরের সব সরকারি, বেসরকারি ও সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত হবে। এছাড়া খসড়া আইনে নোট-গাইড ও প্রাইভেট টিউশন বা স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণয়নের পরের বছরই শিক্ষা আইন নিয়ে কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই আইনের প্রথম খসড়া তৈরি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরে নানা বিষয় সংযোজন-বিয়োজন করে জনমত যাচাইয়ের জন্য ২০১৩ সালে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবার মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষা আইনের খসড়ায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য, বৈপরীত্য ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সঙ্গে অসংগতি থাকায় আবারও এটি পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ফেরত পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ফলে শিক্ষা আইন আর আলোর মুখ দেখেনি।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেছেন, এবার আশা করা যাচ্ছে অতি দ্রুতই এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো যাবে। আর বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে পূর্বানুমোদন লাগবে : ইচ্ছে হলেই খেয়াল খুশিমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করার সুযোগ আর থাকছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য পূর্ব অনুমোদন লাগবে। এমন বিধান খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে, এর সংখ্যা অন্তত ৫০ হাজার। কেউ ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই পরিচালনা করছে। অনুমোদন ছাড়া কেউ এনজিওর ব্যানারে পরিচালনা করছে স্কুল-কলেজ। নতুন আইনে এসবের সুযোগ আর থাকছে না। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। বিদেশি পাঠ্যক্রমে পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা স্থাপন বা পরিচালনা বা বিদেশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে শাখা স্থাপন বা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে।

প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির বিধান : বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নেই বছরের পর বছর। আবার শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক সংখ্যা বেশি। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে খসড়া শিক্ষা আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোন এলাকা বা অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন না হলে সরকার অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত, অন্যত্র স্থানান্তর ও বিলুপ্ত করতে পারবে।

গভর্নিং বডির হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ : দেশের বেসরকারি কলেজে গভর্নিং বডির অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডারবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সভাপতি পদে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কমিটি তাদের নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। এটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও পাঠদানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গভর্নিং বডির ১৬টি দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কাজই সরকার নিজ দায়িত্বে করে দেয়। ফলে যে কিছু কাজ অবশিষ্ট থাকে তা নিয়েই তারা অনিয়ম করে।

খসড়া শিক্ষা আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটি বা চেয়ারম্যান নির্ধারিত এখতিয়ার বা কার্যপরিধির বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে বা পাঠদানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। হস্তক্ষেপের কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে কোনো অনিয়ম বা পাঠদান বাধাগ্রস্ত হলে কমিটির চেয়ারম্যান দায়ী হবেন। এই দায়ে কমিটি বাতিল বা চেয়ারম্যান অপসারণ করতে পারবে সরকার।

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৫ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন