ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৮ °সে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা

বাংলাদেশের সামাজিক সূচকগুলো সত্যিকারের সাফল্যের গল্প: যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের সামাজিক সূচকগুলো সত্যিকারের সাফল্যের গল্প: যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস জি. ওয়েলস। ফাইল ছবি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল উদ্যোক্তা সমাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস জি. ওয়েলস। তার মতে, বাংলাদেশের সামাজিক সূচকগুলো সত্যিকারের সাফল্যের গল্প।

বুধবার একটি বিশেষ আঞ্চলিক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে নারীর অগ্রগতি ও ক্ষমতায়ন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, গত তিন বছরে দুই দেশের সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

করোনা ভাইরাস মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি লাভবান হতে পারে। তার মতে, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের বৈচিত্র্যের সময় এখন। প্রসঙ্গত, বেইজিংয়ের সাথে ভার্চুয়াল বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কয়েক মাস আগে থেকেই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে, কারণ কোভিড-১৯ মহামারী চীনকে ব্যবসা হ্রাসের চাপে রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনছে। ওয়েলস গত তিন বছরের মেয়াদকালে দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া জুড়ে মার্কিন নীতি পর্যালোচনা করার সময় এই সংবাদ সম্মেলনটিকে তার বিদায়ী প্রেস ব্রিফিং বলে অভিহিত করেন। তিনি একজন দক্ষ কূটনৈতিক কেরিয়ার শেষে মে মাসের শেষদিকে অবসর নিতে যাচ্ছেন।

ঢাকার এক সাম্প্রতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরএমজি সাপ্লাই চেইন ধরে রাখতে সত্যিই সহায়তা করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েলস বলেন, তার সরকার বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোকে উৎপাদনের জন্য পিপিই এর মতো প্রতিরক্ষামূলক মেডিকেল গিয়ার নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আমরা বাংলাদেশী নির্মাতাদের এবং মার্কেট ক্রেতাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের জন্য ম্যাচ-মেক করার চেষ্টা করছি, কারণ, বাংলাদেশি কারখানাগুলো পুনরায় নতুন বাজারে প্রত্যাবর্তন করছে এবং খুঁজছে।’

ওয়েলস স্বীকার করেছেন, এই করোনাভাইরাস সংকট বাংলাদেশি আরএমজি ইউনিট সরবরাহ লাইনে বিপর্যয়মূলক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা হ্রাস করতে তার দেশ ঢাকার সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য সকল সুযোগের সন্ধান করা অব্যাহত রাখবে ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজার এবং আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন এই কূটনীতিক মিয়ানমার থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আশ্রয় দেওয়া দেশ ছাড়াও আরো অনেক কিছু করছে।

তিনি বলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন ডিসি সম্পর্ক গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশ গত দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মানবিক বিকাশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ওয়েলস বলেন, এটি (বাংলাদেশ) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আমাদের সুরক্ষা সহযোগিতা আরো কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রেক্ষাপটে অংশীদারি মূল্যবোধের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পরিচালিত কাঠামোয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণে উৎসাহিত করেছিল।

ওয়েলস ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং উজবেকিস্তানসহ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/আরএ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন