বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের রেকর্ডও নেই অর্থবছরের শেষ দিকে ব্যয়ের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল একই ট্র্যাডিশন—সব আমলেই

বাজেট :আকারে বাড়লেও বাস্তবায়নে গতি বাড়েনি

বাজেট :আকারে বাড়লেও বাস্তবায়নে গতি বাড়েনি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতি বছরই বাড়ছে বাজেটের আকার। স্বাধীনতার পর থেকেই বাজেটের আকার বাড়ানো হয়েছে। তবে অর্থবছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের গতি বাড়েনি। বরাবরই দেখা গেছে, সংশোধিত বাজেটও বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি অর্থবছরেও তা হচ্ছে না।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বছরের শুরুতে ঘটা করে আকার বাড়িয়ে চাহিদা সৃষ্টির যে কথা বলা হয়, বছর শেষে তা গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। শেষ দিকে এসে বাজেট সংশোধন করা হয়। সেই সংশোধিত বাজেটও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। সংশোধিত বাজেটও শতভাগ বাস্তবায়নের রেকর্ড না থাকায় ব্যয়ের প্রত্যাশিত সুফলও মিলছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, চাহিদার নিরিখে বাজেট দেওয়া হলে বাস্তবায়নেও গুরুত্ব থাকতে হবে। ব্যয়ের সক্ষমতা অর্জনে কেন পিছিয়ে থাকা—সে প্রশ্নটিরও উত্তর খোঁজা দরকার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। নইলে অর্থবছরের শুরুতে যতটা না প্রত্যাশার কথা বলা হোক, বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনগণের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। চলতি বছরেও একই অবস্থা হবে, কারণ করোনা, বিশ্বমন্দাসহ নানা কারণে এবারে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দক্ষতা ও সমন্বয়হীনতার অভাবকে দায়ী করা হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে এ দুটো খাতে বেশ কাজ হয়েছে। তথাপি বাস্তবায়ন হয়নি শতভাগ। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করতে না পারলে অন্য প্রকল্পে টাকা স্থানান্তরের নিয়মও করা হয়েছে। কিন্তু বছর শেষে এ কাজেও ততটা সুফল মেলে না বরং বছরের শেষ দিকে এসে টাকা ফেরত দিতেও অনীহা কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের।

তাতে পরবর্তী বছরের বরাদ্দ কমে যেতে পারে—তাই মার্চ মাস পেরোলেই অনুমোদন নিয়ে কোনোরকম একটি ব্যয় কাঠামো তৈরি করা হয়। বাস্তবে কাজ হয় না। সূত্রমতে, এই ধরনের ফাঁকফোকর থাকার পরও বাজেটের বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। গত এক দশকে ২০১০-১১ অর্থবছরেই বাজেটের বাস্তবায়ন তুলনামূলক বেড়েছে। কিন্তু শতভাগ হয়নি। সরকারি হিসাবেই গত ১০ বছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের হার গড়ে ৭০ শতাংশের কম হয়েছে। যদিও এর গুণগত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের বাজেটের আকার প্রথমবারের মতো লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গত ১০ বছরে নানা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফলে, বাজেটের আকার বেড়ে যায়। তবে শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।

পরিসংখ্যান :

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। অর্থবছর শেষে বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বাজেটে খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ৯৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে ব্যয় হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা হয়। বছর শেষে মোট বাজেটের মধ্যে ব্যয় হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করা হয় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। পরে তা কমিয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ৭৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের হার দাঁড়ায় ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়ায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ৭০ শতাংশের কম।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছিল গত ১৩ জুন ২০১৯ তারিখে। ২১ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেট ঠিক করা হলেও করোনার প্রভাবে বাস্তবায়ন কম হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত