বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
৩০ °সে

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্মাণ নিয়ে টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্মাণ নিয়ে টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

সাত কেন্দ্রে 'যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ' বিষয়ে ১৭ জুন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির 'করোনাকালেও থেমে নেই উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা' শীর্ষক প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ২৩ জুন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এ মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে দেশের সাধারণ জনগণকে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে মন্তব্য করা হয়।

টেলিভিশনের এই প্রতিবেদনে আনা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট ব্যাখ্যায় বলা হয়, আরটিভির একটি অভিযোগ ছিল 'ডিপিপি তে প্রতিটি লিফটের দাম ২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে', যার প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল 'উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৭ টি কেন্দ্রের জন্য মোট ২১ টি লিফট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৩ টি লিফট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিপিপি এর প্রাক্কলন ইউনিট রেট অনুযায়ী ইউরোপিয়ান এ ক্যাটাগরির ৩ টি লিফটের মূল্য ১৯৫ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ একটি লিফটের মূল্য ১৯৫/৩ = ৬৫ লক্ষ টাকা (ভ্যাট ট্যাক্সসহ) যা গণপূর্ত রেট শিডিউল-২০১৮ অনুসারে সঠিক।'

প্রতিবেদনে আরেকটি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে প্রতি টন এসির দাম ৫২ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। কিন্তু এ তথ্যটিও সঠিক নয় জানিয়ে মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করে যে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৫০ টন এসি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ টন এসির জন্য ধরা হয়েছে ৫২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ প্রতি টন এসিতে খরচ পড়বে ১.০৪ লক্ষ টাকা (ভ্যাট ট্যাক্সসহ)। যা গণপূর্ত রেট শিডিউল-২০১৮ অনুসারে ইউরোপিয়ান স্প্লিট টাইপ এসি ও এর সাথে প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রাংশ (আরএম ক্যাবল, সার্কিট ব্রেকার ইত্যাদি) ও ইন্সটলেশন এর চার্জসহ যথার্থ।

'ডিপিপি তে সভাকক্ষের টেবিল ১২ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে' এমন আরেকটি অভিযোগের বিপরীতে মন্ত্রণালয় জানায়, ডিপিপি অনুযায়ী প্রত্যাশী সংস্থার প্রদত্ত আসবাবপত্র তালিকা অনুসারে প্রতিটি সভাকক্ষের জন্য ৪টি করে টেবিল কেনা হবে এবং প্রতিটি টেবিলের মূল্য ধরা হয়েছে ১.২ লক্ষ টাকা।

আরটিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনের আরেকটি অভিযোগ ছিল, 'ডিপিপি তে সিকিউরিটি ও গেট লাইটের জন্য ১২ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে'। এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানায়, এই অংশে গার্ডেন লাইট, গেইট লাইট, সিকিউরিটি লাইট, কম্পাউন্ড লাইট, স্ট্রিট লাইট, পোল, আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল ইত্যাদি সহ মূল্য ধরা হয়েছে, যা বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে সঠিক।

এ ছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আরও ১৩ অভিযোগের প্রত্যেকটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাসহ বিবরণী প্রকাশ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, উক্ত প্রতিবেদন প্রচারের পূর্বে প্রতিবেদক বা আরটিভির কর্মকর্তাদের কেউ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য গ্রহণ করেনি, যা সাংবাদিকতার প্রথাগত নিয়মের ব্যতিক্রম। আবার প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, 'করোনাকালেও থেমে নেই উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা', এটি মোটেও সঠিক নয়। এই প্রকল্পটি করোনাকালে শুরু হয়নি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই প্রকল্পের ‍ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল।

সম্পূর্ণ মিথ্যা এরকম একটি প্রতিবেদন প্রচারণের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে মন্তব্য প্রকাশ করা হয় এবং একই সাথে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ কাম্য নয় বলেও জানানো হয়।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত