বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

এখনই বসছে না পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান

স্রোতের কারণে পিছিয়ে যেতে পারে দুই মাস
এখনই বসছে না পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান
এখনই বসছে না পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান।ছবি: সংগৃহীত

গত ১০ জুন ৩১ তম স্প্যান স্থাপনের ২০ দিন পর আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বসানোর কথা ছিল পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যানটি। মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর এটি বসানোর সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এটি নির্ধারিত সময়ে বসানো যাচ্ছে না।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের ইত্তেফাককে জানান, ‘জুলাই ও আগস্টে নদীর এ স্রোত আরো বাড়তে পারে। আর না বাড়লেও যে স্রোত রয়েছে এমনটি থাকলেও স্প্যান বসানো সম্ভব হবে না। তবে স্প্যান বসানো না গেলেও পদ্মা সেতুর উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। অন্যান্য কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। স্রোত হ্রাস পেলে একই সঙ্গে একাধিক স্প্যান বসানো হবে।’

গত ১০ জুন জাজিরা প্রান্তে ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ৩১তম স্প্যান। জাজিরা প্রান্তের ২০টির মধ্যে ঐ স্প্যানটি ছিল শেষতম স্প্যান। এতে বসে যাওয়া ৩১তম স্প্যানের মধ্যে ২৯টি স্প্যান একসঙ্গে যুক্ত হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের ইত্তেফাককে বলেন, ‘নদীর স্রোত অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রায় আড়াই মাসে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হবে না। সাধারণত এই দুই বা আড়াই মাস স্প্যান বসানো যায় না। এটা আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল। তবে আগামী নভেম্বরের মধ্যে সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হবে।’

আরো পড়ুন: নোয়াখালীতে করোনায় পুলিশের এএসআইসহ ২ জনের মৃত্যু

পদ্মা সেতুর প্রকল্প সূত্র জানায়, জুনের মধ্যে মূল সেতুর ৮৮ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হবে। তবে সার্বিক উন্নয়ন কাজ জুন মাস পর্যন্ত সম্পন্ন হবে প্রায় ৮০ শতাংশ। চলতি বছর এই সেতুর ১১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মধ্যে সারা দেশে সাধারণ ছুটির মধ্যে ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৪টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আর লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ১০ জুনের স্প্যানটিসহ করোনা দুর্যোগের মধ্যেও সেতুর মোট ৫টি স্প্যান বসানো হয়।

জানা গেছে, মাওয়া ওয়ার্কশপে আরো চারটি স্প্যানের প্রস্তুতিও চলছে দ্রুত গতিতে। তবে বর্ষায় আবহাওয়া শুষ্ক না থাকার কারণে স্প্যানগুলোর রং শুকাতে সময় বেশি লাগছে। এদিকে পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩৯টির মালামাল করোনা মহামারির আগেই এসেছে। বাকি দুটি স্প্যানের অধিকাংশ মালামালও মাওয়ার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে পৌঁছেছে। তবে পাঁচটির মধ্যে একটি জাহাজ এখনো পৌঁছেনি। দুইটি জাহাজ পৌঁছেছে গত ২৫ জুন সন্ধ্যায়। অন্য দুটি এসেছে গত শনিবার দুপুরে। তবে যে জাহাজটি এখনো আসেনি তার সারেং মাস্টার মোংলা থেকে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাগেরহাটের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে নতুন সারেং মাস্টার প্রেরণ করে ঐ জাহাজটি আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মাওয়া প্রান্তে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান বসেছে আগেই। এই দুই স্প্যানের দু’পাশে বাকি স্প্যানগুলো বসে গেলেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। চলতি অর্থ বছরে বড় প্রকল্পের মধ্যে সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ পদ্মা সেতুতে। আগামী বছর জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের ইত্তেফাককে জানান, ‘সেতুর অন্যান্য উন্নয়ন কাজের সঙ্গে রেলওয়ের স্ল্যাব বসানোর কাজও এগিয়ে চলছে। তবে আগামী বছর জুন মাসে উন্নয়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা করোনার কারণে কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। মহামারি করোনার মধ্যেও জুন মাসের মধ্যে মূল সেতুর ৮৮ শতাংশ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুর ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত