বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

হাসপাতালে কমছে করোনা রোগী ভর্তি

সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি কমেছে ২৭৪ জন **মুগদা, কুয়েত মৈত্রীসহ অন্যান্য হাসপাতালেও রোগী কমছে **সুখবর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জন হপকিনস ** যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফোগ্রাফে বলা হয়েছে যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার কমছে বাংলাদেশে
হাসপাতালে কমছে করোনা রোগী ভর্তি
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল [ফাইল ছবি]

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী। এরই মধ্যে অনেকের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি কমেছে ২৭৪ জন। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ অনেক হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি কমে আসছে। এমনই সুখবর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার কমছে বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফোগ্রাফেও এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংক্রমণের শীর্ষে থাকা বিশ্বের ২০টি দেশে সংক্রমণের প্রবণতা তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশে সংক্রমণের হার নিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রবণতা এখন নিম্নমুখী। বাংলাদেশের পাশাপাশি নিম্নমুখী রাশিয়া, চিলি, যুক্তরাজ্য ও মিশরে। সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পেরু, ইরান, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরাক, পাকিস্তান, বলিভিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ইকুয়েডর এবং আর্জেন্টিনায়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১১৯ দিন আগে ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি কমেছে। আক্রান্তের হারও কমে আসছে। কোনো কোনো হাসপাতালে বেড ফাঁকা আছে। তারা আরো বলেন, ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারা দেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪০১টি। সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৮৫টি। সারা দেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানুলা সংখ্যা ২০৩টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১০৬টি। সারা দেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪৪৯ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২২০ জন এবং ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭১৫ জন, ছাড় পেয়েছেন ৬৪৪ জন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসছে। তবে এটা নিয়ে আমরা যেন আত্মতৃপ্তিতে না ভুগি। কমার এ ধারা অব্যাহত রাখতে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। জনসমাগম করা যাবে না। আসন্ন ঈদ ও কোরবানির পশুর হাটে সবারই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তাহলে সামনে আরো ভালো খবর আসবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি কমে আসছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জুন রোগী ভর্তি ছিল ৭৫০ জন। গতকাল ৬ জুলাই ভর্তি আছেন ৪৭৬ জন। গত এক সপ্তাহ ধরে এভাবে ধীরে ধীরে রোগী ভর্তি কমেছে।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদ ও কোরবানির পশুর হাট নিয়ে সবার সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সর্দি, কাশি, হাঁচি হলে ঘরে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের চিকিত্সকরা বলেন, ২৯ জুন এই হাসপাতালে ১৫৩ রোগী ভর্তি ছিল। গতকাল ৬ জুলাই ভর্তি আছেন ১৩৬ করোনা রোগী। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সকরা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমছে। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকরাও বলেছেন, সপ্তাহ ধরে করোনা আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা কমেছে।

এদিকে বেশি সংক্রমিত এলাকা ও কম সংক্রমিত এলাকাসহ সারা দেশে করোনা পরিস্থিতির সার্ভে শুরু করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সার্ভে সম্পন্ন করবে। এ পর্যন্ত করা সার্ভেতে তারা দেখেছে, দেশের করোনা আক্রান্তের হার নিম্নমুখী। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে এসব এলাকায় এখন সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে।

আগে ঢাকায় ঘরে ঘরে করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল। এখন অনেকটা কম। ঘরে ঘরে করোনা রোগী আর পাওয়া যাচ্ছে না। আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, দেশে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী। তবে সামনে দুটি ঝুঁকি আছে। এক. আসন্ন ঈদ, দুই. কোরবানির পশুর হাট। এই দুই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলে নিম্নমুখীর এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, অতীতে গার্মেন্টস খোলা ও বন্ধ করা এবং ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে মানুষের গ্রামে যাওয়া ও গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসার ঘটনায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছিল। এবার সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত