বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

বাংলাদেশকে এখনো কিছু জানায়নি চীন

করোনার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল
বাংলাদেশকে এখনো কিছু জানায়নি চীন
করোনা ভ্যাকসিন। ছবি: প্রতীকী

বাংলাদেশে চীনের সিনোভেক গ্রুপের করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের মানবদেহে ট্রায়ালের বিষয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) চীনের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ১০ দিন আগে অনুমোদন দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্রায়ালের বিষয়ে চীন সরকার যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোর কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণেই বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চীনের ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা আটকে গেছে। অন্য কোনো দেশের ভ্যাকসিন পরীক্ষা বা গবেষণা চালানোর জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তবে চীনের সিনোভেক বায়োটেক কোম্পানি ঢাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআর,বির মাধ্যমে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। এই প্রস্তুতি পর্বে চীনা কোম্পানিটি বিএমআরসির কাছ থেকে অনুমতিও নিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে আইসিডিডিআর’বি সাতটি হাসপাতালের নির্দিষ্ট করা মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করবে এমন ধারণাও দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভ্যাকসিন ট্রায়াল দুই রাষ্ট্রের বিষয় এবং তাতে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল মান্নান তিন দিন আগে বিবিসিকে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে চীন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোর কারণে তা নিয়ে কোনো আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তাছাড়া ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের বিষয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে বা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অফিশিয়ালি কোনো চিঠিপত্র কেউ পাঠায়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি, এরকম চিঠিপত্র যদি আমরা পাই আনুষ্ঠানিকভাবে, তাহলে আমরা জবাব দেব এবং ব্যবস্থা নেব।

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান আরো বলেন, ‘চাইনিজ কোনো টিম এসে যদি ট্রায়ালটা করতে চায়, তাহলে এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যায় থেকে একটা উদ্যোগ নেওয়ার কথা। ঐ চ্যানেল থেকেই কিন্তু কাজটা করার কথা এবং সরকারের একেবারে হাইয়েস্ট লেভেল থেকে সিদ্ধান্তটা হওয়ার কথা। আমরা এখনো সেভাবে অফিশিয়ালি কিছু পাইনি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও বলেছেন, ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানালে তখন সরকার তা নিয়ে আলোচনা করবে এবং করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সরকারের বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে।

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে সরকারের বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ বলছেন, ‘আমাদের দেশে কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধের গবেষণা করতে হলে গবেষকদল প্রথমে একটা ভালো প্রটোকল তৈরি করবে। সেই প্রটোকল তারা বিএমআরসির কাছে জমা দেবে। বিএমআরসি অ্যাথিক্যাল ক্লিয়ারেন্স দেবে। এটা একটা ধাপ। দ্বিতীয় ধাপটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যাকসিন তো একটা প্রডাক্ট। এটা মানুষের দেহে প্রয়োগ করবে। ফলে কোনো মেডিক্যাল প্রডাক্ট বা গবেষণার জিনিস বা ওষুধ বাংলাদেশে আনতে হলে ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয়।’

তবে সচিব আব্দুল মান্নান বলেছেন, অন্য দেশের গবেষণার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। যেহেতু আরেক দেশের টিম আসবে, মানে বিশেষজ্ঞরা আসবে; তাই তাদের একটা অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।

এদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছিল। চীনে এই দল করোনা ভাইরাস সামলানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে সহায়তার কথা বলেছে। তখনই চীনের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ে মানুষের মধ্যে প্রয়োগের পরীক্ষা বাংলাদেশে করার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে খবর হয়। ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণকারী হবেন বলে তিনি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যও দিয়েছিলেন। আইসিডিডিআরবি’র একাধিক সূত্র জানায়, প্রস্তুতি পর্বে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাদের পক্ষ থেকেও নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, চীনের ঐ ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার বিএমআরসির নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ২২ জুলাই বলেছেন,অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। বিএমআরসি কোনো অনুমোদন দিতে পারে না। আর সরকারই পলিসিগতভাবে সিদ্ধান্ত দেবে কোন দেশ বা কাদের সঙ্গে কাজ করবে কি করবে না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত