মাতারবাড়ী প্রকল্পের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে : নৌ প্রতিমন্ত্রী

মাতারবাড়ী প্রকল্পের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে : নৌ প্রতিমন্ত্রী
জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ইউহো হায়াকাওয়ার নৌ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। ছবি : দৈনিক ইত্তেফাক

মাতারবাড়ী প্রকল্পের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাইকা প্রতিনিধিদল সাক্ষাত করতে এলে প্রতিমন্ত্রী তাদের এ কথা জানান। এদিন বাংলাদেশস্থ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ইউহো হায়াকাওয়ার নৌ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অংশগ্রহণ, সর্বশেষ করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ফোন এবং বাংলাদেশকে জাপানের ২৮০০ কোটি টাকা সহায়তার জন্য জাইকা প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। করোনা সময়েও মাতারবাড়ী প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জাইকা প্রতিনিধি দল।

উন্নয়ন সহযোগী জাইকা প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মধ্যে ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৮ দশমিক ২৩৫ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ২০৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। সওজ অংশের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ করা হয়েছে এবং চবক অংশের অন্তবর্তী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প সমন্বয়ক এবং চবক অংশের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়েছে।

মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলমেন্ট প্রজেক্টটি এ বছরের ১০ মার্চ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ (প্রকল্প সাহায্য) ১২,৮৯২ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা, সরকারি অর্থ ২,৬৭১ দশমিক ১৫ কোটি ও নিজস্ব অর্থ ২,২১৩ দশমিক ২৫ কোটি। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। অনুমোদিত প্রকল্পে দু’টি কম্পোনেন্ট রয়েছে। বহুমুখী টার্মিনাল, কন্টেইনার টার্মিনাল ও অন্যান্য কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এবং পোর্টের সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সড়ক সংযোগকারি ২৬.১ কিলেমিটার (চারলেন বিশিষ্ট) মূল সড়ক, ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ-কাম-সড়ক ও ১৭টি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

এ সময় অন্যন্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলা নাথ দে, যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) মো: রফিকুল ইসলাম খান এবং যুগ্ম-প্রধান রফিক আহম্মদ সিদ্দিক এবং জাইকা প্রতিনিধি ওয়াতারু ওসাওয়া উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত