সমুদ্রে গ্যাস পেতে আরো ১০ বছর সময় লাগবে

জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে আলোচনা
সমুদ্রে গ্যাস পেতে আরো ১০ বছর সময় লাগবে
সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেছেন, সরকার দেশজ গ্যাস ও বায়ু সম্পদের মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ভোলাতে আরো গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। আর সাগরে যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে তা আসতে ১০ বছর লাগবে। এজন্য বিকল্প চিন্তাও একই সঙ্গে করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

রবিবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জ্বালানি বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু জ্বালানি খাতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য রক্ষা এবং স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমাদের এখনো সেটি করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ৯ আগস্ট আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন বঙ্গবন্ধু। তার স্বনির্ভর জ্বালানি খাতের দর্শন অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিএনপি সরকারের সময় মিয়ানমার থেকে ভারতে পাইপলাইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি সেই উদ্যোগে সংযুক্ত হয়নি। এতে করে আমরা ২০-২৫ বছর পিছিয়ে গেছি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, গ্যাসের উৎপাদন ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। এখন এই উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। এখন উন্নয়ন না করলে চাহিদা এবং সরবরাহে একটি বড় পার্থক্য তৈরি হবে। এখন প্রতি বছর ৬০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এজন্য আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে।

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, আমাদের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ম. তামিম বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমাদেরও সেটি করতে হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু জাহির, বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এ বি আব্দুল ফাত্তাহ এবং বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকার, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র (তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা) ব্রিটিশ কোম্পানি শেল থেকে অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যে কিনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এটি সবচেয়ে বড় মাইলফলক। ঐ দিনটিকে স্মরণ করে ২০১০ সাল থেকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত