স্রষ্টার কৃপাদৃষ্টি চেয়ে জন্মাষ্টমীতে প্রার্থনা

সব নির্ঘণ্ট মন্দিরপ্রাঙ্গণেই হয়নি শোভাযাত্রা
স্রষ্টার কৃপাদৃষ্টি চেয়ে জন্মাষ্টমীতে প্রার্থনা
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে এবার শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বের হয়নি শোভাযাত্রা। মন্দিরে মন্দিরে ভক্তরা মুখে মাস্ক পরে প্রার্থনায় অংশ নেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ছবি —ইত্তেফাক

সনাতন হিন্দুধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন থাকে। এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কোনো শোভাযাত্রা, মিছিল বা সমাবেশ হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দিরপ্রাঙ্গণেই পালন করা হয়েছে জন্মাষ্টমীর সব নির্ঘণ্ট। মহামারিতে আর্থিক-সামাজিক দুর্বিপাক থেকে উত্তরণের জন্য স্রষ্টার কৃপাদৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

জন্মাষ্টমী উত্সব উদ্যাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে এক দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দেশ, জাতি ও বিশ্বমঙ্গল কামনায় শংকর মঠ ও মিশন, সীতাকুণ্ডের সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতে কৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠে এ উপলক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়। অন্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভজন, দুপুরে প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে গুরু মহারাজের বাণীবচন এবং রাত ৮টায় শ্রীকৃষ্ণপূজা। মন্দিরে আসন গ্রহণ ও প্রসাদ গ্রহণের সময় ভক্তদের স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরিধান আবশ্যক ছিল। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ।

তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, ‘ভগবান যুগে যুগে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। এই করোনা ভাইরাস মহামারিকালে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করছি। তিনি জরা ও ব্যাধিমুক্ত এক পৃথিবী আমাদের দেবেন। মহামারিকাল শেষ হলে মানুষে মানুষে প্রীতি ও সদ্ভাবে গোটা পৃথিবী সুন্দরতম হয়ে উঠুক, সে প্রার্থনা করেছি।’ বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, ‘পূজার শুরুতেই আমরা করোনা ভাইরাসে পীড়িত এ পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করেছি। স্রষ্টার কৃপায় এ পৃথিবীতে ফের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসুক, সে প্রার্থনা করেছি।’ মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মল বলেন, জন্মাষ্টমী উত্সবের মাধ্যমে মূলত শারদীয় দুর্গোত্সবের সূচনা হলো। এরপর দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তোড়জোড় শুরু হবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত