করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্ধকারে অধিদপ্তর

করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্ধকারে অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত

মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পাচ্ছি কিংবা পাব—এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। একসময় পাওয়াও যাবে। কিন্তু করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো অন্ধকারে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সরজমিনে গিয়ে অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভ্যাকসিন নিয়ে কে কোথায় কী করছে তা তারা জানেন না। করোনা ভ্যাকসিন কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হবে সেটাও তাদের অজানা। তবে নিজ উদ্যোগে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০ কোটি টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশে যে ইপিআই ভ্যাকসিন আছে সেটির ব্যবস্থাপনার আদলে করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ইপিআই ভ্যাকসিন প্লাস ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। অর্থাৎ স্বাভাবিক ফ্রিজে রাখা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি যে, করোনা ভ্যাকসিন মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। কিন্তু আমাদের সেই প্রস্তুতি নেই। আসলে কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হয় তা জানা নেই।

প্রসঙ্গত, ২০০টিরও বেশি কোম্পানি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১৪১টি কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে এবং ২৫টি কোম্পানি এ ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এসব কোম্পানির ভ্যাকসিনসমূহের সব গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করে বাজারজাতের প্রথম পর্যায়ে এবং সবার আগে যেন বাংলাদেশ পায় সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনো খুব বেশি বিস্তার ঘটাতে পারেনি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। এ ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হলো মূল কর্ণধার। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট এ দুই দপ্তরের মধ্যে রয়েছে সমন্বয়ের বড় অভাব। ভারতের সার্জন জেনারেল সেই দেশের স্বাস্থ্যের সবকিছু সমন্বয় করেন। কিন্তু আমাদের দেশে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়ের ঘাটতি সব সময় থাকে। যার যে কাজ সে সেই কাজ করছে না। বিগত সব সরকারের আমলেই স্বাস্থ্য সেক্টরের চিত্র ছিল অভিন্ন।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয় নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অধিদপ্তর এখনো না জানলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নে অধিদপ্তরকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে অধিদপ্তরের জানানো উচিত।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিনের জন্য সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে জনবল নিয়োগ, কখন কি করতে হবে তার সবকিছু জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সুপারিশে আছে। অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা ভ্যাকসিন সাধারণত মাইনাস ২০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের (আইপিএইচ) কুকুর ভ্যাকসিন বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, কুকুরের ভ্যাকসিনসহ ইপিআই ভ্যাকসিন নরমাল ফ্রিজে রাখা যায়। জলাতঙ্ক রোগের যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, সেটাকে বলা হয় কিল ভাইরাস ভ্যাকসিন। কিন্তু পোলিও ভাইরাস মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। অর্থাত্ ভাইরাল ভ্যাকসিন মাইনাস ডিগ্রিতে রাখতে হয়। এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন মাইনাস ৮০ ডিগ্রিতে রাখতে হতে পারে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন করোনা রোগী বাড়ছে। ঈদের আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে গড়ে দিনে ৪০০ রোগী থাকত, এখন আছে ৬০০। তবে মৃত্যুর হার কম। সরকারি হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট ঠিকমতো এলেও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সঠিকভাবে আসছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে এক-তৃতীয়াংশ রোগী করোনা পরীক্ষা করছে না। কিন্তু তাদের উপসর্গ আছে। করোনা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাপনার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি থাকা উচিত।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত