দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ছাড় নয়

জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ছাড় নয়
গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে পারটিসিপেটরি ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন প্রোগ্রাম এবং জিএনডিআরের সহযোগিতায় ‘ন্যাশনাল কোলাবরেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন —ইত্তেফাক

বিশ্বে ৩৪ ধরনের দুর্যোগ আছে, এরমধ্যে একটি বাদে বাকি সবগুলোই আমাদের দেশে রয়েছে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে চলতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে। এ যাবত্ প্রকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এই ক্ষতিগুলো কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা ভাবতে হবে। আমরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছি ভূমিকম্প নিয়ে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। সরকারি-বেসরকারি খাতের সম্পর্ক যদি ভালো হয় তাহলে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইমপ্লিমেনটেসন অব ভিএফএল-২০১৯’ প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্টিসিপেটরি ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন প্রোগ্রাম (পিডিএপি)’ এই জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করে। এতে আর্থিক সহযোগিতা করে ‘গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন ফর ডিজাস্টার রিডাকশন (জিএনডিআর)’।

‘কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (সিইউপি)’ এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সানইয়াতের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ‘আমার এলাকা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, সে কারণে আমাকে দিনরাত তটস্থ থাকতে হয়। বাঁধের বাইরে যদি আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়, তাহলে বন্যা কিংবা সাইক্লোনে আশ্রয় নেওয়া যাবে। এসব বিষয়ে কেবল সরকারের ওপর নির্ভর করতে হবে তা-নয়, জিও-এনজিও যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে, তাহলে ফলপ্রসূ হবে।’

তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছে। সেই উন্নয়নের ফলও আমরা ভোগ করছি। কিন্তু তার পরেও আমরা দেখি রাজনীতিতে এখন যারা আসছে, তারা নিজেরা সম্পত্তি বানানোতে ব্যস্ত। আমি তৃণমূল থেকে দেখেছি, যতটা আশা দিয়ে রাজনীতিবিদরা ভোট নেয়, ততটা আশা তারা পূরণ করেন না! আমাদের মাত্র ৫০ বছরের দেশ, সেদিক থেকে আমাদের দেশে অনেক ভালো কাজ হয়েছে এবং আমরা অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়েছি।’

দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হারুন উর রশিদ মোল্লা বলেন, সাতক্ষীরায় ভয়াবহ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। খুলনার কয়েকটা এলাকায় খাবার পানি আনতে মেয়েদের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লেগে যায়। পানি আছে কিন্তু সেই পানি তারা ব্যবহার করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছি ভূমিকম্প নিয়ে। মাত্র সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে আমাদের ৭৬ হাজার বিল্ডিং ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোথাও কোনো দুর্নীতি হলে জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরো ১ হাজার সাইক্লোন সেন্টার করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউ এন হ্যাবিট্যাট-এর দেশীয় সমন্বয়কারী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা শুধু বলি এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে। কিন্তু করে দিলেও সেটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেই না। তাই সবার সমন্বয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে পিডিএপির নির্বাহী পরিচালক কাজী বেবী বলেন, ‘দেশের চারটি জেলায় ১৫টি কমিউনিটিতে কাজ করছে পিডিএপি। সেখানকার কিছু পরিবার আছে যাদের কাছে দেশের উন্নয়নের কোনো কিছুই পৌঁছায়নি।’ কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন ইউএনডিপির প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন, সংশপ্তকের রফিকুল ইসলাম, বাপার মিহির বিশ্বাস, গাইবান্ধার মুন্নি আক্তার, সাতক্ষীরার মনিরুজ্জামান, তৃণমূলের আয়শা বেগম, ফাতেমা বেগম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত