নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন হবে না: মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন হবে না: মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান। ছবি : রয়টার্স

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই. বিগান বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে না। মঙ্গলবার রাতে এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিগান সপ্তাহব্যাপী নয়াদিলি­ ও ঢাকায় সফর শেষে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষত ভারত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বাস্তব সম্ভাবনার এক মুহূর্তে রয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, তার বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি পর্যালোচনা ও গভীর করা। একইসঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) সম্পর্কিত পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা, করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় দুই দেশের অংশীদারিত্ব ও যৌথ সহযোগিতা জোরালো করা।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি অনেকে জানেন না যে, কোভিড-১৯ এর প্রথম পর্যায়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্টের (পিপিই) ঘাটতি ছিল, তখন এই পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। দ্রুত ওই পণ্য সরবরাহ করার জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের বেসরকারি খাতের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে সফরে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার জন্য এই রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা কাজ করবো। রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে বিগান বলেন, এই সমস্যা সমাধানে চীন সামান্যই কাজ করেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বেইজিংয়ের কাছে আরো বেশি প্রত্যাশা করা উচিত।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে সামরিক শাসন ও ক্যু’র মধ্যেও বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়েছে। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাক স্বাধীনতা, মানবাধিকারেরর সুরা এবং সুশাসনকে উৎসাহিত করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন প্রায় অভিন্ন নীতি অনুসরণ করে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত