করোনার পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু

নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় এডিস মশা বেড়েছে মশা নিধনের বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা
করোনার পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু
করোনার পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু। ছবি: সংগৃহীত, ফাইল

করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুও বাড়ছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বব্যাপী। দেশে গত এক দিনে আরো ২ হাজার ৩৬৪ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা গত ৭৮ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

করোনার আগ্রাসি থাবায় যখন পুরো দেশের মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তখন ঘরেও অন্য এক আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে সবাইকে। নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এডিস মশার লার্ভা।

গত অক্টোবরে ১৬৩ জন এবং চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত ৩০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে? ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশা নিধনের বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পায়। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে নভেম্বরে। সাধারণত নভেম্বর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুরও ধরন পালটাচ্ছে। আগে এটা ছিল মৌসুমি রোগ। এখন সারা বছর ধরেই হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মশা বেঁচে থাকলে বছরের যে কোনো সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, শীত আসলে ডেঙ্গু থাকে না। আগামী জানুয়ারিতে শীত আসছে, ঐ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে। তিনি বলেন, নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি হয়। এতে পানি জমাট বেঁধে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এডিস মশার উত্পত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। আর এ কাজটি সিটি করপোরেশনের। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ ও বেশি করে পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপ্রিন জাতীয় কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। শীতে আরো বাড়বে। তাই সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরলেই অনেকটা নিরাপদ থাকা যাবে।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে। পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় এবং পানি জমাট বেঁধে এডিস মশা বেড়েছে। একই সঙ্গে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। দুটি ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়া আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।

তিনি বলেন, লকডাউনের সময় মানুষ বাসাবাড়িতে ছিল। ঐ সময় ঘরবাড়ি পরিষ্কার রেখেছিল। তাই তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। এখন লকডাউন না থাকায় মানুষ বাইরে বেরিয়ে আসছে। আর বাড়ির আশপাশের জমাট বাঁধা পানি পরিষ্কার করছে না। এতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে নভেম্বরে বৃষ্টি হয়েছে। এতে এডিস মশার বিস্তার ঘটেছে। তবে জানুয়ারিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে না।

তিনি বলেন, শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসবে—বিশেষজ্ঞরা আগেই এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। যে কারণে এখন বাড়ছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কবে আসবে বলা যায় না। তাই এখন সবার মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে অনেক শিশু ডেঙ্গু রোগী আসছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শিশু ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। করোনা রোগীও বাড়ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত