পার্বত্যাঞ্চলে হত্যা করা হচ্ছে মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের

হত্যার মিশন চালাচ্ছে জেএসএস-ইউপিডিএফ একত্রে; আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বেছে বেছে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে: এমপি দীপংকর
পার্বত্যাঞ্চলে হত্যা করা হচ্ছে মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের
পার্বত্যাঞ্চলে হত্যা করা হচ্ছে মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্যাঞ্চলে মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। আর এই হত্যার মিশনে নেমেছে জেএসএস মূল ও ইউপিডিএফ মূল একত্রে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি সিটও পায়নি তারা। এতে তারা রাজনৈতিক সংকটে পড়ে।

নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই দুই সংগঠন একসঙ্গে মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার মিশনে নামতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছে না। অথচ অতীতে দুই সংগঠনের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো। এখন তারা অন্যান্য মূলধারার রাজনৈতিক ও বিরোধী আঞ্চলিক দলকে কোন রকম ছাড় দিতে নারাজ।

পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথেই শান্তি চুক্তি হয়েছিল। অথচ আওয়ামী লীগ নেতাদের এভাবে হত্যা করলে কিভাবে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। তাদের নেতিবাচক ভূমিকাই পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বড় বাধা।

২০১৭ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে জেএসএস মূল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকির দিয়ে জেলার ৩৫৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলচ্যুত করতে বাধ্য করেছিল। দল ছাড়ার লিখিত দিয়ে রক্ষা পায় ৩৫৫ জন পরিবার। ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলার নয়মাইল এলাকায় উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গাড়িতে জেএসএস মূল এবং ইউপিডিএফ মূল এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৮ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হন।

২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তংচংগ্যাকে উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের পাংখুপাড়া নামক স্থানে জেএসএস মূল এর সন্ত্রাসীরা গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। ২০১৯ সালের ১৯ মে কাপ্তাই জোনের আওতাধীন রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ক্য হ্লা চিং মারমাকে তার নিজ বাড়িতে জেএসএস মূল এর ৭/৮ জন সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করে। একই দিন বান্দরবান জোনের রাবার বাগান-৮ এলাকায় সন্ত্রাসী দলের গুলিতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি কে চিং থোয়াই মারমা নিহত হন।

গত বছরের ২২ মে বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর চ থোয়াই মং মারমাকে উজিমুখ হেডম্যান পাড়া এলাকায় তার নিজ খামার বাড়ি থেকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে। পরবর্তীতে গত বছরের ২৫ মে শিকল খালের আগা নামক স্থান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

২০১৯ সালের ২৩ জুলাই লামা উপজেলার সড়ই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আলমগীর শিকদারকে ৪ থেকে ৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান সদরস্থ রাজভিলা ইউনিয়নের জামছড়িতে জেএসএস মূল এর ৭/৮ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাজভিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি বাচানু মারমাকে গুলি করে হত্যা করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, এই দুইটি গ্রুপ তিনটি পার্বত্য জেলাতে চাঁদাবাজির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। আগে কেউ মামলা করতে সাহস পেত না এদের বিরুদ্ধে। এখন হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে স্বজনহারারা বাদী হয়ে মামলা দিচ্ছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত