করোনা সংকটে নারী শ্রম রপ্তানিতে ধস

করোনা সংকটে নারী শ্রম রপ্তানিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারির কারণে নারী অভিবাসী শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে রীতিমতো ধস নেমেছে। যেখানে প্রতি বছর গড়ে ১ লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে যান, সেখানে ২০২০ সালে গেছেন মাত্র ১৯ হাজার। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসেই এই সংখ্যক নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। বছরের বাকি ৯ মাসে কোনো নারী শ্রমিক বিদেশে যাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। বামরুর জানিয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যে হারে জনশক্তি বিদেশে গেছে, তা অব্যাহত থাকলে গত বছর ৮ লাখের মতো নারী-পুরুষ শ্রমিক বিদেশে যেতেন। কিন্তু করোনা সংকটের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৬ নারী শ্রমিক বিদেশে যান। আর ২০১৮ সালে তা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার। তবে এ সময় রেমিট্যান্স অন্য বছরগুলোর তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমতে পারে। কিন্তু এ সময় প্রায় ১৭ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়ে যায়।

এ সম্পর্কে গবেষণা সংস্থা রামরুর প্রধান অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছে, করোনাকালে ৩ লাখ ৮০ হাজার কর্মী দেশে ফিরে আসেন। তখন তারা তাদের পুরো সঞ্চয় নিয়ে আসেন। দেশের বাইরে থেকে রেমিট্যান্স এলে সরকারের প্রণোদনা থেকে ২ শতাংশ বেশি দেওয়া হবে। যার ফলে এইভাবে টাকা পাঠানো বৃদ্ধি পায়। আবার ভিসা কিনতে যে টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকে তাও খরচ হয়নি। অধ্যাপক তাসনিমের মতে এ বছর অভিবাসন কম হওয়ার প্রভাবে রেমিট্যান্স আগামী বছরগুলোতে কমতে পারে। কার্যত প্রভাবটা এই বছর (২০২১) পড়বে।

নারী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পুরোদেশে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা গৃহশ্রমিকের কাজ করেন। তাদের থাকা-খাওয়ার খরচ নেই। তাই তারা পুরো আয়টাই পরিবারে পাঠায় আবার তাদের যাতায়াত ব্যয় পুরুষের তুলনায় অনেক কম।

নারী শ্রমিকের বিদেশে অবস্থানকালে নানা সমস্যায় পড়ে এমন প্রশ্ন করলে অধ্যাপক তাসনিম বলেন, এখন সব নারী শ্রমিক বৈধভাবে যান। সরকার নারীর যৌক্তিক সমস্যা হলে তিন বার কাফালা পরিবর্তনের বিধান রেখেছে। বাড়িতে থেকে কাজ করলে সমস্যা হয়। তাই হোস্টেল ভাড়া করেও নারী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে করোনাকালে হোটেলের শ্রমিকদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তারা না খেয়ে থেকে অনেক দুর্ভোগের শিকার হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারী শ্রমিকের কোনো সমস্যা হলে তাদের অর্জিত কল্যাণ ফান্ড দিয়ে মামলা করে ক্ষতিপূরণের ওপর জোর দেন এই বিশেষজ্ঞ। কারণ ঐ সব দেশে আইন কঠোর। দোষী প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। কিন্তু নারী শ্রমিকরা কোথায় থাকবে? কে তার দায়িত্ব নিবে-এমন কারণে মামলা করা হয় না বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত