ইসির ডাটাবেজে ‘স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট’ গ্যাঁড়াকলে নাগরিকরা

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পরও এনআইডি পাওয়া যাচ্ছে না
ইসির ডাটাবেজে ‘স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট’ গ্যাঁড়াকলে নাগরিকরা
প্রতিকী ছবি।

নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবায় ‘স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট’ গ্যাঁঁড়াকলে পড়েছেন নাগরিকরা। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পরও এনআইডি পাচ্ছেন না তারা। ইসির ডাটাবেজে স্ট্যাটাস ‘ইনকমপ্লিট’ থাকায় তা কমপ্লিট করতে দৌড়ঝাপ করেও কাজ হচ্ছে না। নতুন ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ এ কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

যদিও মাঠ পর্যায়ের উপজেলা অফিস থেকে এ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে এনআইডির মহাপরিচালককে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও সমাধান হচ্ছে না। এক্ষেত্রে এনআইডি সংশ্লিষ্টদের নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ নাগরিক সেবাবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীরকে ফোন করা হলে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরে এনআইডির পরিচালক (অপারেশন্স) নুরুজ্জামান তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার ফরমে তথ্যের অসম্পূর্ণতা এবং আঙুলের ছাপের সমস্যার কারণে ‘ইনকমপ্লিট স্ট্যাটাস’ দেখাচ্ছে। তাত্ক্ষণিকভাবে সমস্যা নজরে এলে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাগুরা সদরের মো. কবির হোসেন ২০১৯ সালে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এখনো পর্যন্ত এনআইডি পাননি তিনি। দীর্ঘ দুই বছর ভোটার হওয়ার পরও এনআইডি না পাওয়ায় তিনি হতাশ। ঢাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার ভোটার অবস্থান ‘ইনকমপ্লিট স্ট্যাটাস’। পরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য মাগুরায় নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করেন। গত ৩ মার্চ মাগুরা জেলা নির্বাচন অফিসার মো. অলিউল ইসলাম এনআইডি মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, মো. কবির হোসেন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু যে কোনো কারণে তার আঙুলের ছাপ ও আইরিশ ডাটাবেজ আপলোড হয়নি। ফলে ডাটাবেজে উক্ত ভোটারের স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট অবস্থায় আছে। তার নাম ভোটার তালিকায় নেই। তিনি এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। এমতাবস্থায় তিনি অনেক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উক্ত ভোটারের আঙুলের ছাপ ও আইরিশ গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট থাকার কারণে আপলোড করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ করেন জেলা নির্বাচন অফিসার। কিন্তু আজ পর্যন্ত এনআইডির মহাপরিচালক উক্ত ভোটারের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

একইভাবে গত ১৫ মার্চ বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন এনআইডি মহাপরিচালক বরাবর সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পাঁচ জন ভোটারের স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট থাকার বিষয়টি অবগত করে চিঠি দেন। তারও কোনো সমাধান হয়নি। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসার জানান, নিম্নোক্ত আবেদনকারীগণ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র স্ট্যাটাস ইনকমপ্লিট হওয়ায় তা রি-অ্যাক্টিভেট করার জন্য কার্যালয়ে আবেদন দাখিল করেন। সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পরিচয়পত্র স্ট্যাটাস বিধি মোতাবেক রি-অ্যাক্টিভেট করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সেই সুপারিশ ইসিতেই পড়ে আছে। অথচ ভুক্তভোগী নন্দবোধি শ্রামণ, মো. রুবেল হোসেন, ইছমাইল হোসেন, অপর্ণা চৌধুরী এবং মোছা. জয়নাব ছিদ্দিকা ঢাকার এনআইডি অফিসে ধরনা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সমাধান পাচ্ছেন না।

একইভাবে ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এনআইডি মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, রিফাত তাসফিয়া বারী ২০১৯ সালে ভোটার হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র উত্তোলনের জন্য ইন্টারনেটে চেষ্টা করেও আইডি তুলতে পারেননি। উক্ত ভোটারের স্ট্যাটাস রয়েছে ‘ইনকমপ্লিট’। উক্ত ইনকমপ্লিট স্ট্যাটাস সংশোধন করে কমপ্লিট স্ট্যাটাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এনআইডি সংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে বলেছেন, এনআইডি উইংয়ে এ ধরনের শত শত আবেদন জমা পড়লেও সুরাহা হচ্ছে না। যাদের ‘যোগাযোগ ভালো’ তাদের কাজটি সহজে হলেও অন্যদেরটি মাসের পর মাস আটকে আছে। ভুক্তভোগীরা এনআইডিতে জমে থাকা এ ধরনের আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। বলেছেন, এনআইডি ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কোনো সেবা মেলে না।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x