ভোগান্তি মাথায় করেই ফিরছে মানুষ

ভোগান্তি মাথায় করেই ফিরছে মানুষ
ছবি: আব্দুল গনি

আজ থেকে চালু হয়েছে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা। এই সিদ্ধান্তকে মাথায় রেখে আজ রবিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সীমিত এ সময় গণপরিবহন চালু করা হলেও গাড়ির স্বল্পতার কারণে ভোগান্তি মাথায় নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন পোশাক শ্রমিকরা। উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর শনিবার সকাল থেকেই শহরের বাইরের বিভিন্ন মহাসড়কে দেখা দেয় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গণপরিবহন না থাকায় যে যেভাবে পেরেছেন, গন্তব্যের দিকে ছুটেছেন। অনেকেই ট্রাক কিংবা ভ্যানে জায়গা না পেয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন। ফেরিঘাটগুলোর অবস্থা ছিল আরও করুণ। শনিবার সকাল থেকে শুরু করে সারারাতই কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ঘাটগুলো। এরপরই রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জীবন-জীবিকার সংকটে মানুষ

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প সময়ের এই সিদ্ধান্তের জন্য অনেকেই গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। সেইসঙ্গে ঢাকামুখী মানুষ যেনো সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারে সেজন্য গণপরিবহন চালুর নির্ধারিত সময় বাড়ানোর দাবি জানানো হয় যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোডে আজ সকাল থেকে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলেও সেই তুলনায় গাড়ির সংখ্যা ছিল একদমই অল্প। ফলে একদিকে যেমন উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, অন্যদিকে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

পোশাক শ্রমিক রকিবুল ইসলামের বলেন, কারখানা যেহেতু খুলে দিয়েছে, আমাদের তো অবশ্যই যেতে হবে। তবে এতো কম সময়ের জন্য গাড়ি চলার সুযোগ দিলে আমরা কীভাবে কর্মস্থলে যাবো? কমপক্ষে একদিন সময় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২০ কি‌মি অং‌শে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী একটি বাসের সহকারী জানান, অল্প সময়ের জন্য গাড়ি ছাড়লে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। তাই মালিকের নির্দেশে ভাড়া একটু বেশি নিচ্ছি। এছাড়া লকডাউনে আমরা বেকার বসে আছি। এ সীমিত সময়ে আমরা গাড়ি চালিয়ে আর কতটুকু আয় করবো বলেন!

এদিকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে না পারায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে এই টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ। রবিবার চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক কায়সারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যাত্রীর চাপ এতটাই বেশি যে, তারা কোনোভাবেই নির্দেশনা মানছে না। যে পরিমাণ যাত্রী আছে দুপুর ১২টার মধ্যে একটি বা দুটি লঞ্চের মাধ্যমে তা ঢাকায় পাঠানো সম্ভব নয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে নৌচলাচল বন্ধ রেখেছি। ১১টার পর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিন সকাল থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ৯টি লঞ্চ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। যদিও সকালে যাত্রীর চাপ কম ছিল। অনেকে সকাল ৮টার পর জানতে পারেন লঞ্চ চলাচল চালু হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপও বাড়তে থাকে।

এ প্রসঙ্গে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, সীমিত সময়ের জন্য সরকার যাত্রীদের কর্মস্থলে ফেরার যে সুযোগ করে দিয়েছে, সেটা পর্যাপ্ত নয়। রাজধানীর আশেপাশের কিংবা কর্মস্থলের আশেপাশের কিছু মানুষ কর্মস্থলে সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারলেও অধিকাংশ মানুষ যাত্রা পথে ভোগান্তিতে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি যেমন মানা হচ্ছে না, তেমনি বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীরা যেন কর্মস্থলে সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারে, সেজন্য নির্ধারিত এই সময় বৃদ্ধি করার দাবি জানাবো আমরা।

শনিবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের কাজে যোগদানের সুবিধার্থে ১ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিন সন্ধ্যার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র দিয়ে বাস-লঞ্চ চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থে সরকার গণপরিবহন চলাচল শিথিল করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক জানান, রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলায় এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x