‘দেশের সব রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’

‘দেশের সব রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে’
রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: ইত্তেফাক

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে রেলপথ, নৌপথ, আকাশপথ ও সড়ক পথকে সমৃদ্ধ করতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এ বাংলাদেশে রেলের উন্নয়ন ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হবে না। দেশে রেলপথে আমাদের যে মিটারগেজ লাইনগুলো আছে, পর্যায়ক্রমে সমস্ত লাইনগুলোকে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। দেশের সবগুলো রেল লাইনকে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তর করা হবে। গোটা বাংলাদেশে রেল ব্যবস্থাকে যেখানে সিঙ্গেল লাইন সেখানে ডাবল লাইন, যেখানে মিটারগেজ সেখানে ডুয়েলগেজ করা হবে। দেশের সবগুলো রেল লাইনকে সরকার পর্যায়ক্রমে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে কুমিল্লা-লাকসাম সেকশনে ২৪ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এই লাইনটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ডাবল লাইন যোগাযোগ শুরু হয়েছে। লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইনের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার ইতিমধ্যে সমাপ্ত হচ্ছে। আগামী ২৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে পারব। এইভাবে এই অংশটুকু ডাবল লাইন হয়ে গেলে এরপর আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। যেখানে ডাবল লাইন আছে কিন্তু ব্রডগেজ নেই, সেখানে ব্রডগেজ হবে। ঠিক লাকসাম থেকেও চট্টগ্রাম পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সাথে যুক্ত হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারি পর্যন্ত মিটারগেজ আছে, সেই অংশটুকু ব্রডগেজ হবে। আর দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইনের কাজ এগিয়ে চলছে।

দেশের রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত, খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত সমুদ্র বন্দরের সাথে আমাদের যোগাযোগ ছিল না, সেটিও হাতে নেয়া হয়েছে। আমাদের দক্ষিণ এবং পশ্চিমা লের সাথে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধু সেতুর মধ্য দিয়ে সড়কপথের সাথে রেলসেতুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় রেলসেতুর কাজ চলছে এবং আমরা আশা করছি ২০২৪ সালের মধ্যে এই সেতু দিয়ে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে চলাচল শুরু হবে। পদ্মা সেতুতে আমরা আশা করছি- আগামী বছরের জুন মাসে সড়ক সেতু খুলে দেওয়া হবে।

এসময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, রেলওয়ে পূর্বা লের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রীর সহধর্মিনী শাম্মী আকতার মনি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x