ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৭ °সে


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখনও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখনও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
ছবি: সংগৃহীত

ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অপর্যাপ্ত ভ্যাকসিনেশন কভারেজের কারণে রোহিঙ্গারা ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। আসন্ন বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের জন্য এমএসএফ নিচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে ৭,০০,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর পার হয়ে গেছে বিশ মাস। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা এখনও মারাত্মক কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি পরিবেশে রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে বানানো অস্থায়ী ঝুপড়ির মত বাসস্থানগুলো সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য রোগের ব্যাপকতা তাদের টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অপর্যাপ্ততা নির্দেশ করে, আর তীব্র পানিবাহিত ডায়রিয়ার রোগীর আধিক্য ইঙ্গিত দেয় বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাবের দিকে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত এমএসএফ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৭,০৩২ জনকে ডিপথেরিয়ার জন্য, হামের ঝুঁকিতে থাকা ৪,৯৮৭ জনকে, এবং ৯৯,৬৮১ জন রোগীকে তীব্র পানিবাহিত ডায়রিয়ার জন্য চিকিৎসা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রী ধর্ষণে অন্ত:সত্ত্বা, ধর্ষক গ্রেফতার

মিয়ানমারে বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্যাকসিনেশন কভারেজ খুবই কম। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচীগুলোতে এমএসএফ সহায়তা করেছে, যেন ডিপথেরিয়া, হাম ও কলেরার মত রোগগুলোকে প্রতিরোধ করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই)-কে আরও সফলভাবে চালানর জন্যও এমএসএফ সরকারের সাথে কাজ করছে। বর্তমানে এই ইপিআই কর্মসূচীর আওতায় দুই বছরের কম বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের টিকা দেয়া হচ্ছে, এটি পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ও বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কমানোর জন্য এমএসএফ অতিরিক্ত আরও বেশ কিছু কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৭ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৭৭,৪৩০ জন শরণার্থীর জন্য এমএসএফ ১৯৩ মিলিয়ন লিটার ক্লোরিনেটেড পানি বিতরণ করেছে। এছাড়াও, পানি সরবরাহের জন্য পাঁচটি ওয়াটার নেটওয়ার্ক ও ল্যাট্রিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ফেকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। ৩৯০টি ল্যাট্রিনের ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে, ৭৬০টি ল্যাট্রিন থেকে ১,৪৩৩ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য পরিস্কার করা হয়েছে, আর এর সাথে সাথে রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য প্রায় ১২,০০০ সেশন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা নিয়ে এমএসএফ উদ্বিগ্ন। সেকেন্ডারি পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, গুণগত মানসম্পন্ন ও ২৪-ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত সার্জিক্যাল সুবিধা, গাইনী ও নবজাতকের চিকিৎসা, শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন ক্রনিক রোগের চিকিৎসার সুযোগ এখানে অনেক কম। শিশু, নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য আইপিডি (ইনপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট) সুবিধা প্রদানকারী প্রধান সংস্থাগুলোর মধ্যে এমএসএফ অন্যতম।

আসন্ন বর্ষাকাল ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম এর ব্যাপারে এমএসএফ প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ও নাজুক ঘরগুলো সাইক্লোন বা সাধারণ ভারী বৃষ্টিতে পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে পড়বে। জরুরী আবহাওয়া মোকাবেলার জন্য ক্যাম্পে কোন সাইক্লোন শেল্টার নেই, স্থানীয় জনগণের জন্যও অপর্যাপ্ত। এমএসএফ-এর দুটি হাসপাতালে ম্যাস ক্যাজুয়ালটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান করা হচ্ছে; যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যায়, যেন প্রয়োজন হলে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা আউটব্রেক সেন্টারে সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া যায়, এবং যেন প্রয়োজনে নন-ফুড আইটেম বিতরণ করা যায়। ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন