অপহৃত ভাগনের সন্ধান চাইলেন সোহেল তাজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

অপহৃত ভাগনে সৌরভকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন —ইত্তেফাক

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগনের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলন সোহেল তাজ ছাড়াও অপহূত সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভের বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম ও মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনোভাবেই এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না— কোনো নাগরিক গুম কিংবা অপহূত হোক। আজকে আমার ভাগনে, কালকে হয় তো আপনার ভাই হতে পারে। আরেক দিন হয়তো আপনার সন্তান হতে পারে। কার কী পরিচয় তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারো জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি ভাগনেকে ফিরে পাব।’

গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভ অপহূত হন। সৌরভ বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই দিন রাতে তাঁর বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর ভাগনেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘বেঙ্গলী বিউটি’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দাশীল পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার সওদাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে সে বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে সওদার বাবা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সালেহ আজাদ চৌধুরী তার ছেলেকে দোষারোপ করেন। সৌরভসহ আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। ২০১৮ সালের ১৬ মে বনানীর বন্ধুর বাসা থেকে র্যাব পরিচয়ে ৮/১০ জন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে চোখ বেঁধে সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে যাওয়ার সময় অপহরণকারীরা ওই অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ক্যামেরারা হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ সওদা সম্পর্কে তথ্য নেয়। এ ছাড়া তারা তাকে চাকরির প্রলোভন দেখায়। কাগজপত্র চায়। এ ঘটনার পর চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সৌরভকে র্যাব সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মোবাইলের সব ডাটা ডিলিট করে সেখানেও সওদার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে সৌরভের মা আরো বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানার ওসি ফরমান আলী সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওসি তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এক সপ্তাহ পর গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্মকর্তার সঙ্গে ব্র্যাক সেন্টারের সামনে এক রেস্টুরেন্টে বৈঠক হয়। সেখানে সৌরভের ঘটনা তদন্ত করার কথা জানানো হয়। সেখানেও সওদার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। পরে তারা প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলে চলে যায়। এরপর গত ৮ জুন দুপুর ১১-১২টার দিকে র্যাব ফোন করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে বলে। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি সৌরভ। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই। সংবাদ সম্মেলনে অপহরণকারীরা কি প্রভাবশালী, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে— এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। একটি সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটা আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য, আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। আট দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।’

ইত্তেফাক/আরকেজি