রেলের ৪০০ সেতু ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  শ্যামল সরকার

কুলাউড়া ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ

দেশের ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথে ছোট-বড় কালভার্ট ব্রিজ রয়েছে ৩ হাজার ১৪৩টি। এরমধ্যে স্বাধীনতাপূর্বকালে ১৯৩৫ সালের মধ্যে তৈরি ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ রেলকর্তৃপক্ষের বছরভিত্তিক জরিপে দেখা যায় প্রায় চারশ ব্রিজ-কালভার্ট এখন চলাচলের অনুপযোগী বা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সংস্কার না হওয়ায় রেলচলাচলে ক্রমাগত ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাধীনতাপূর্বকালে ৭০ সাল পর্যন্ত দেশে রেলপথ নির্মিত হয় ২ হাজার ৮৫৮ দশমিক ২৩ কিলোমিটার। স্বাধীনতার পর নির্মাণ করা হয়, ৯৭ দশমিক তিন কিলোমিটার।

এসব রেলপথে নির্মিত ৩ হাজার ১৪৩ ছোট-বড় সেতুর মধ্যে বর্তমানে ৪০২টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর সেতুগুলোর সংস্কার না করার কারণে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথে ৩২৬ বড় সেতু (৬০ ফুট বা তার বেশি) এবং ছোট সেতু রয়েছে ২ হাজার ৮১৭। তবে এ সব সেতুর অধিকাংশেরই নির্মাণকাল ব্রিটিশ আমলে হওয়ায় সেতুগুলোর বয়স বর্তমানে ৮০-১০০ বছর। বেশিরভাগ সেতু নির্মাণ করা হয় ১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে।

রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনচালকদের এ সব ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দিয়ে থাকেন। স্বাভাবিক নিয়মে সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন পরিচালনার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্রেন চালকগণ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে এ সব সেতু পার করেন। রেলের এ সব ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর সংস্কার বা কোনো কোনো সেতু পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নিলেও বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। সেতু নির্মাণের বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এতদিন উদাসীনতাই দেখিয়েছেন।

নূরুল ইসলাম সুজন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছেন। নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণছাড়াও পথ ও কালভার্ট ব্রিজের সংস্কার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কাজ রাতারাতি সংস্কার সম্ভব নয়। তবে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে যেখানে যেমন সংস্কার বা নির্মাণ প্রয়োজন তা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রেলপথকে ঢেলে সাজানোর কাজও শুরু করেছেন তিনি।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, রেলপথের কাজ চলছে এডহকভিত্তিতে। যখন যেখানে যেটি সমস্যা হয় তখন সেটি মেরামত করা হয়। কোনো সার্বিক জরিপ বা নিয়মিত তদারকি নেই। ৪০ হাজার জনবল প্রয়োজন এমন তথ্য দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন জনবল আছে ২৫ হাজার ৮৮৩ জন। এরমধ্যে অফিসার ৪২০ জন।

আরও পড়ুন: ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। যাতায়াতে যাত্রীরা রেলপথকেই নিরাপদ মনে করেন। ইতিমধ্যে ইঞ্জিন-কোচ বৃদ্ধি, ব্রডগেজ লাইন তৈরি, বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথ পুনরায় চালু ইত্যাদি উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। কিছু বাস্তবায়নও হয়েছে। সেই সঙ্গে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ নজরদারি বা তদারকির দিকে তেমন দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। ফলে মাঝে মধ্যে ব্রিজ ভেঙে, কিংবা স্লীপার না থাকায় লাইনচ্যুত হয়ে রেল দুর্ঘটনা হচ্ছে। খোদ রাজধানীর বুকচিরে তৈরি রেলপথের অধিকাংশ জায়গা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কিছু কিছু জায়গায় নাট বল্টুও নেই। বাঁকাতেড়া হয়ে আছে রেলের পাত।

ইত্তেফাক/নূহু